• ৯ কার্তিক ১৪৩৩, বুধবার ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ই-পোর্টাল

Janatar Katha

Banner Add
  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও
  • এছাড়াও
    • উৎসব
    • ব্যবসা
    • স্বাস্থ্য
    • শিক্ষা
    • প্রযুক্তি
    • হেঁসেল

New Zealand

খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে মেঘ দেখছেন সঞ্জু! তিরুঅনন্তপুরমে কিউয়িদের উড়িয়ে ৪-১ সিরিজ় জয় ভারতের

বিশ্বকাপের আগে বোলার ও ফিল্ডিংয়ের বাস্তব পরীক্ষা নিতে টস জিতে আগে বোলিং বেছে নিয়েছিলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। শিশির বাড়লে অর্শদীপ সিংহ, বরুণ চক্রবর্তীরা রান সামলাতে পারেন কি না, সেটাই ছিল লক্ষ্য। কিন্তু পরিকল্পনার মাঝেই দৃশ্যপট বদলে দিলেন ঈশান কিশন। ব্যাট হাতে ঝড় তুলে তিরুঅনন্তপুরমে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪৬ রানে হারিয়ে ৪-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ় জিতে নিল ভারত।ভারত তোলে ৫ উইকেটে ২৭১ রানটি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর। জবাবে কিউয়িদের ইনিংস থামে ১৯.৪ ওভারে ২২৫ রানে। ম্যাচে দুদল মিলিয়ে ওঠে ৪৯৬ রান ও ৩৬টি ছক্কাটি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে যা নতুন নজিরের শামিল।দুবছরের বেশি সময় পর জাতীয় দলে ফেরা ঈশান কিশন যেন প্রমাণ করতেই নেমেছিলেন। তিন নম্বরে নেমে ৪৩ বলে নিজের প্রথম টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক শতরান পূর্ণ করেন তিনি। ৬টি চার ও ১০টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে কিউয়ি বোলারদের কার্যত ছেলেখেলা বানান ঈশান। তাঁকে দুর্দান্ত সঙ্গ দেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। ৩০ বলে ৬৩ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন সূর্য। তৃতীয় উইকেটে দুজনে ৫৭ বলে ১৩৭ রানের বিধ্বংসী জুটি গড়েন।এর পর পাঁচ নম্বরে নেমে হার্দিক পাণ্ড্য করেন ১৭ বলে ৪২। শেষ দিকে রিঙ্কু সিংহ ও শিবম দুবে নামেন শুধু আনুষ্ঠানিকতা সারতে। কিউয়ি বোলারদের মধ্যে কিছুটা নিয়ন্ত্রিত ছিলেন লকি ফার্গুসন (৪১ রানে ২ উইকেট), বাকিরা ভারতীয় ব্যাটিং তাণ্ডবের সামনে অসহায় দেখিয়েছেন।লক্ষ্য তাড়ায় নিউ জ়িল্যান্ডের শুরুটা নড়বড়ে হলেও ফিন অ্যালেন (৩৮ বলে ৮০) এবং রাচিন রবীন্দ্র (১৭ বলে ৩০) লড়াই জিইয়ে রাখেন। অ্যালেন আউট হওয়ার পরই ভেঙে পড়ে কিউয়িদের ইনিংস। মাঝের ওভারগুলোতে উইকেট তুলে ম্যাচ ভারতের দিকে ঘুরিয়ে দেন অর্শদীপ ও অক্ষর পটেল।চাপের মুখে ড্যারেল মিচেল চেষ্টা করলেও একা কিছু করার ছিল না। শেষ পর্যন্ত ভারতের বোলারদের মধ্যে উজ্জ্বলতম পারফরম্যান্স অর্শদীপের৫১ রানে ৫ উইকেট। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিকে এটাই তাঁর প্রথম পাঁচ উইকেট। অক্ষর নেন ৩৩ রানে ৩ উইকেট। হার্দিক কার্যকর হলেও বুমরাহ ও বরুণ প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হন, যা বিশ্বকাপের আগে ভাবনার জায়গা রেখে গেল।সব মিলিয়ে, ঈশানের শতরান আর অর্শদীপের পাঁচ উইকেটদুটোই একসঙ্গে এনে দিল ভারতের বড় জয় এবং আত্মবিশ্বাসী সিরিজ় সমাপ্তি।

জানুয়ারি ৩১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

ঈশান কোনে সূর্যোদয়! ব্যাটের তাপপ্রভাবে ঝলসে গেল কিউই স্বপ্ন, ২০৯ তাড়া করে ইতিহাস গড়ল ভারত

রায়পুরে এমন এক রাত দেখল ভারতীয় ক্রিকেট, যেখানে হার মানল সব সংশয়, উড়ে গেল প্রতিপক্ষের আত্মবিশ্বাস। শুরুটা ছিল ভয় ধরানোসাত বলের মধ্যেই দুই ওপেনারের বিদায়। স্টেডিয়াম তখন নিস্তব্ধ। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যাট হাতে আগুন ধরালেন ঈশান কিশন ও অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব।২০৯ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ধরা দিলেন ঈশান। বোলার, ফিল্ডারকাউকেই রেয়াত করেননি তিনি। মাত্র ২১ বলে অর্ধশতরান করে বুঝিয়ে দেন, বিশ্বকাপের দলে তাঁর থাকা অকারণ নয়। ৩২ বলে ৭৬ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল ১১টি চার ও ৪টি ছক্কা। শতরান হাতছাড়া হলেও ম্যাচের রাশ তখন ভারতের দখলেই।এক প্রান্তে ঝড় তুললেও অন্য প্রান্তে ঠান্ডা মাথায় ইনিংস গড়ছিলেন সূর্যকুমার যাদব। ঈশান আউট হওয়ার পর পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নেন অধিনায়ক। ১৪ মাস পর অর্ধশতরান করে মাঠ ছুঁয়ে প্রণামসে দৃশ্যই বলে দিচ্ছিল, পুরনো সূর্য ফিরে এসেছেন। ৩৭ বলে ৮২ রানের ইনিংসে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় নিউ জ়িল্যান্ডের বোলিং ভেঙে পড়ে।শেষের কাজটা আরও সহজ করে দেন শিবম দুবে। সূর্যের সঙ্গে তাঁর অর্ধশতরানের জুটি দেখে মনে হচ্ছিল, কে আগে ম্যাচ শেষ করবেন তার প্রতিযোগিতা চলছে। মাত্র ১৫.২ ওভারে ৭ উইকেটে ম্যাচ জিতে সিরিজে ২-০ এগিয়ে যায় ভারত। টি-টোয়েন্টির ইতিহাসে ২০০-র বেশি রান তাড়া করে এত বল বাকি থাকতে জয়ের নজির খুব কমই আছে।এর আগে ব্যাট করতে নেমে কিউইরা ২০ ওভারে ২০৮ রান করলেও তা যথেষ্ট হয়নি। রাচিন রবীন্দ্র ও মিচেল স্যান্টনার লড়াই চালালেও ভারতীয় ব্যাটিংয়ের দাপটে শেষ পর্যন্ত হার মানতে হয়। কুলদীপ যাদব বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ দুটি উইকেট নেন।এই জয় শুধু সিরিজের লিড নয়, বিশ্বকাপের আগে আত্মবিশ্বাসের বড় বার্তা। দেশের মাটিতে এই ভারতকে হারানো যে কতটা কঠিন, রায়পুরে আবারও তা বুঝে গেল প্রতিপক্ষ।

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

শর্মা-সিংহের যুগলবন্দি, নাগপুরে রানের বন্যা, নজিরের রাতে নিউ জ়িল্যান্ডকে উড়িয়ে সিরিজ়ে এগোল ভারত

নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ় শুরু করল দাপুটে জয় দিয়ে ভারত। নাগপুরে প্রথম ম্যাচে ব্যাটে-বলে সর্বাত্মক আধিপত্য দেখিয়ে ৪৮ রানে জয় তুলে নিল সূর্যকুমার যাদবের দল। এই ম্যাচে একাধিক নজির গড়ার পাশাপাশি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে শক্তিশালী বার্তাও দিয়ে রাখল টিম ইন্ডিয়া।টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন নিউ জ়িল্যান্ড অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। তবে সেই সিদ্ধান্ত যে ভুল প্রমাণিত হতে চলেছে, তা বুঝিয়ে দেন ভারতীয় ব্যাটাররা শুরু থেকেই। আগ্রাসী মেজাজে ইনিংস শুরু করেন অভিষেক শর্মা ও সঞ্জু স্যামসন। যদিও সঞ্জু (১০) বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। দুবছরের বেশি সময় পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা ঈশান কিশনও (৮) ব্যর্থ হন। ২৭ রানে দুই উইকেট হারিয়ে সাময়িক চাপে পড়ে ভারত।চাপের মুহূর্তে দায়িত্ব নেন অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব ও অভিষেক শর্মা। অভিষেক শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। অন্যদিকে সূর্য সংযত ব্যাটিং করে ইনিংস গুছিয়ে নেন। ২২ বলে ৩২ রানের ইনিংসে চারটি চার ও একটি ছক্কা মারেন সূর্যকুমার। এই ইনিংস তাঁর ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দেয়, যা বিশ্বকাপের আগে কোচ গৌতম গম্ভীরের জন্য নিঃসন্দেহে স্বস্তির।তবে ম্যাচের আসল নায়ক অভিষেক শর্মা। ৩৫ বলে ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে নিউ জ়িল্যান্ডের বোলারদের কার্যত দিশেহারা করে দেন তিনি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ৫টি চার ও ৮টি ছক্কা। নিখুঁত টাইমিং, শক্তিশালী শট আর অনায়াস আগ্রাসনে তিনি প্রমাণ করে দেন, টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে কেন তাঁকে অন্যতম ভয়ংকর ব্যাটার বলা হয়।অভিষেকের গড়া ভিতের উপর দাঁড়িয়ে ভারতের রান পাহাড়ে পরিণত করেন রিঙ্কু সিং। সাত নম্বরে নেমে ফিনিশারের ভূমিকায় ফের সাফল্য পেলেন কেকেআরের এই ব্যাটার। ২০ বলে অপরাজিত ৪৪ রানের ইনিংসে ৪টি চার ও ৩টি ছক্কা মারেন তিনি। তাঁর সঙ্গে হার্দিক পাণ্ড্যও (১৬ বলে ২৫) কার্যকর অবদান রাখেন। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ২৩৮ রান তোলে ভারতটি-টোয়েন্টিতে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে যা ভারতের সর্বোচ্চ দলগত স্কোর। একই সঙ্গে এই ম্যাচে ১৪টি ছক্কা মারে ভারত, এটিও নতুন রেকর্ড। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ৪৪তম বার ২০০-এর বেশি রান করল ভারতযা আর কোনও দলের নেই।লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউ জ়িল্যান্ড। মাত্র ১ রানের মধ্যে দুই ওপেনার ডেভন কনওয়ে (০) ও রাচিন রবীন্দ্র (১) ফিরে যান। অর্শদীপ সিং ও হার্দিক পাণ্ড্যের নিখুঁত নতুন বলের স্পেলে কার্যত ম্যাচের শুরুতেই কোণঠাসা হয়ে পড়ে কিউয়িরা। টিম রবিনসন (২১) কিছুটা লড়াইয়ের চেষ্টা করলেও বরুণ চক্রবর্তীর বলে বিদায় নেন।এর পর গ্লেন ফিলিপ্স ও মার্ক চাপম্যান পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। বিশেষ করে ফিলিপ্সের ব্যাটিং ভারতীয় শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি করে। ৪০ বলে ৭৮ রানের ইনিংসে তিনি ৪টি চার ও ৬টি ছক্কা মারেন। তবে অক্ষর পটেলের বলে ফিলিপ্স আউট হতেই ম্যাচ ফের ভারতের নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। চাপম্যানও (৩৯) বরুণের শিকার হন।শেষদিকে ড্যারেল মিচেল (২৮) ও স্যান্টনার (২০) চেষ্টা করলেও প্রয়োজনীয় রান রেটের চাপ সামলাতে পারেননি। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৯০ রানেই থেমে যায় নিউ জ়িল্যান্ডের ইনিংস।ভারতের বোলারদের মধ্যে বরুণ চক্রবর্তী ৩৭ রানে ২ উইকেট নেন। শিবম দুবে ২৮ রানে ২ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে সফল বোলার। অর্শদীপ ও হার্দিকও একটি করে উইকেট পান। তবে জসপ্রীত বুমরাহ প্রত্যাশামতো প্রভাব ফেলতে পারেননি। পাশাপাশি ফিল্ডিংয়ে একাধিক সহজ ক্যাচ ফসকে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে কিছুটা চিন্তা বাড়াবে ভারতীয় শিবিরে।এই ম্যাচে একমাত্র অস্বস্তির কারণ অক্ষর পটেলের চোট। ফিল্ডিং করতে গিয়ে আঙুলে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে হয় তাঁকে। বিশ্বকাপের আগে তাঁর ফিটনেস নিয়ে তৈরি হল নতুন প্রশ্নচিহ্ন।সব মিলিয়ে, ব্যাটিংয়ে আগ্রাসন, রেকর্ড গড়া স্কোর এবং গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বোলারদের সাফল্যে আত্মবিশ্বাসে ভরপুর ভারত। সিরিজ়ের শুরুতেই নিউ জ়িল্যান্ডকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে রাখল সূর্যকুমারের দলটি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তারা যে ভয়ংকর প্রতিপক্ষ হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

জানুয়ারি ২২, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

কিউয়ি বোলারকে নিয়ে বিরাট ছেলেখেলা! নতুন বছরে পুরনো মেজাজে কোহলি......

নতুন বছরেও পুরনো মেজাজে কোহলি, সাত কিউয়ি বোলারকে নিয়ে বিরাট ছেলেখেলা! প্রথম ম্যাচে ৪ উইকেটে জয় ভারতের। কোহলির দাপটে বডোদরায় জয়, নিউ জ়িল্যান্ডকে হারিয়ে সিরিজ়ে এগিয়ে ভারতবডোদরার নতুন স্টেডিয়ামে রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের শেষে নিউ জ়িল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়ে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। শুভমন গিলের নেতৃত্বাধীন দলের এই জয়ের মূল কারিগর বিরাট কোহলি, যাঁর ব্যাট থেকে এল দায়িত্বপূর্ণ ও ম্যাচজয়ী ৯৩ রান।টস হারিয়ে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে নিউ জ়িল্যান্ড নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে তোলে ৩০০ রান। ওপেনার ডেভন কনওয়ে ও হেনরি নিকোলস শুরুটা মজবুত করেন। প্রথম উইকেটে ১১৭ রানের জুটি গড়ে ম্যাচে দাপট দেখান দুজন। নিকোলস ৬২ এবং কনওয়ে ৫৬ রানের ইনিংস খেলেন। মাঝের ওভারে চার নম্বরে নামা ড্যারেল মিচেল একাই লড়াই চালিয়ে যান। ৭১ বলে ৮৪ রানের ঝকঝকে ইনিংসে নিউ জ়িল্যান্ডকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন তিনি। শেষ দিকে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের ঝোড়ো ব্যাটে কিউয়িরা পৌঁছয় ৩০০ রানে।ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মহম্মদ সিরাজ ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণদুজনেই নেন ২টি করে উইকেট। হর্ষিত রানাও ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। তবে চোটের কারণে ওয়াশিংটন সুন্দর পুরো কোটা শেষ করতে না পারায় ভারতীয় শিবিরে কিছুটা উদ্বেগ তৈরি হয়।৩০১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারত শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ২৬ রান। শুভমন গিল ধীরে খেলেও দায়িত্ব নেন৭১ বলে করেন ৫৬ রান। তবে ইনিংসের আসল নিয়ন্ত্রণ নেন বিরাট কোহলি। চেনা ছন্দে, সাবলীল অথচ আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকিয়ে ম্যাচ নিজের মুঠোয় নিয়ে আসেন তিনি।🗣️ If I look back at my whole journey, its nothing short of a dream come true. ✨🎥 Virat Kohli reflects on his incredible career after becoming the 2⃣nd highest run-getter in mens international cricket🙌👏#TeamIndia | #INDvNZ | @imVkohli | @idfcfirstbank pic.twitter.com/87BgcZlx4b BCCI (@BCCI) January 11, 2026এই ইনিংসেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৮ হাজার রান পূর্ণ করেন কোহলি। পাশাপাশি কুমার সাঙ্গাকারাকে ছাপিয়ে সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক রান সংগ্রাহকদের তালিকায় উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে। তাঁর সামনে এখন শুধুই সচিন তেন্ডুলকর।কোহলির সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন শ্রেয়স আয়ার। সহ-অধিনায়ক ৪৭ বলে ৪৯ রান করে দলের ভিত মজবুত করেন। তবে কোহলি আউট হওয়ার পর হঠাৎ ছন্দ হারায় ভারত। দ্রুত কয়েকটি উইকেট পড়ায় ম্যাচ জমে ওঠে। সেই সময় চাপের মুখে দায়িত্ব নেন লোকেশ রাহুল। শেষ দিকে হর্ষিত রানার সাহসী ২৯ রানের ইনিংস এবং রাহুলের অপরাজিত ২৯ রানে ৪৯ ওভারে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় ভারত।নিউ জ়িল্যান্ডের হয়ে বল হাতে লড়াই চালান কাইল জেমিসন। ৪১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি ভারতকে চাপে ফেললেও শেষরক্ষা করতে পারেননি কিউয়ি অধিনায়ক।সব মিলিয়ে কোহলির অভিজ্ঞতা, মাঝের ওভারের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং এবং শেষের ঠান্ডা মাথার লড়াইয়ে জয় ছিনিয়ে নেয় ভারত। তবে জয়ের আনন্দের মাঝেই ওয়াশিংটন সুন্দরের চোট ভারতীয় শিবিরের চিন্তার কারণ হয়ে রইল।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

৫০-র লড়াইয়ে ফিরছেন শুভমন-শ্রেয়স, পিচ নিয়ে সংশয়ে ভারতীয় থিঙ্ক-ট্যঙ্ক

দক্ষিণ আফ্রিকা অধ্যায় শেষ। এবার ঘরের মাঠে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে সাদা বলের নতুন পরীক্ষা ভারতের। রবিবার শুরু হচ্ছে তিন ম্যাচের এক দিনের সিরিজ়, যেখানে একাদশে একাধিক বদল প্রায় নিশ্চিত। চোট কাটিয়ে ফিরছেন অধিনায়ক শুভমন গিল ও সহ-অধিনায়ক শ্রেয়স আয়ার। অন্য দিকে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির কথা মাথায় রেখে এই সিরিজ়ে বিশ্রামে রাখা হয়েছে জসপ্রীত বুমরাহ ও হার্দিক পাণ্ড্যকে। ফলে নতুন কম্বিনেশনেই নামতে চলেছে ভারত।ওপেনিংয়ে বদলের ইঙ্গিত নেই। যশস্বী জয়সওয়াল ও রোহিত শর্মার বাঁহাতি-ডানহাতি জুটি এক দিনের ক্রিকেটে এখনও দলের সবচেয়ে ভরসার জায়গা। তিন নম্বরে বিরাট কোহলি অবধারিত। সাম্প্রতিক ঘরোয়া ক্রিকেটেও তাঁর ব্যাট যে কতটা ছন্দে, তা চোখে পড়ার মতো। চার নম্বরে ব্যাট করবেন শুভমন গিল। অধিনায়ক হিসেবে চাপ থাকলেও, এক দিনের ফরম্যাটে তাঁর ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন নেই। পাঁচ নম্বরে ফিরছেন শ্রেয়স আয়ার। অস্ট্রেলিয়া সফরের চোট কাটিয়ে দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন তাঁর। প্রস্তুতির অভাব নেই, তা বিজয় হজারে ট্রফিতেই বোঝা গেছে।মিডল অর্ডারে ছনম্বরে থাকবেন লোকেশ রাহুল। শেষ ম্যাচে খেলা রুতুরাজ গায়কোয়াড় ও তিলক বর্মার জায়গায় এই ম্যাচে অভিজ্ঞতাকেই বেছে নেওয়া হচ্ছে। সাত নম্বরে অলরাউন্ডারের ভূমিকায় রবীন্দ্র জাডেজানিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে যাঁর কার্যকারিতা নিয়ে কোনও দ্বিধা নেই টিম ম্যানেজমেন্টের।বোলিং আক্রমণে থাকবে চার বিশেষজ্ঞ। স্পিনে কুলদীপ যাদব, পেসে মহম্মদ সিরাজের জায়গা প্রায় পাকা। তাঁদের সঙ্গে দেখা যেতে পারে হর্ষিত রানা ও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণকে। শেষ এক দিনের দলে থাকা অর্শদীপ সিংয়ের বদলে এই ম্যাচে সিরাজকে ফেরানো হচ্ছে বলেই ইঙ্গিত।প্রতিপক্ষকে হালকা করে দেখছে না ভারত। কিউয়ি শিবিরে ডেভন কনওয়ে, ড্যারেল মিচেল, গ্লেন ফিলিপস বা কাইল জেমিসনের মতো ম্যাচ-ঘোরানো ক্রিকেটার রয়েছেন। তার উপর ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজ় হারের স্মৃতি এখনও তাজা।আর একটি বড় প্রশ্ন বডোদরার নতুন কোটাম্বি স্টেডিয়ামের পিচ। এই মাঠে প্রথম এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচ। পিচের আচরণ এখনও অজানা। শিশিরের প্রভাবও থাকতে পারে। শনিবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সেই অনিশ্চয়তার কথাই তুলে ধরেছেন শুভমন। সব মিলিয়ে টসের ভূমিকা বড় হয়ে উঠতে পারে। নতুন মাঠ, নতুন কম্বিনেশনরবিবারের ম্যাচে তাই চ্যালেঞ্জ যেমন আছে, তেমনই নিজেদের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগও ভারতের সামনে।

জানুয়ারি ১১, ২০২৬
খেলার দুনিয়া

সেমি ফাইনাল নয়- এ যেন 'শামি ফাইনাল'! বিশ্ব ক্রিকেটের মহারণের ময়দানে মহাকাব্যিক বোলিং!

মহঃ শামি - বিরাট কোহলি - শ্রেয়াস আইয়ার এর দৌলতে এই প্রথমবার কোনও পুরুষদের ক্রিকেট বিশ্বকাপের নকঅউট পর্বের ম্যাচে ভারত নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করল। এই জয়ের সাথে সাথে ভারত ২০২৩ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত ফাইনালে পৌঁছে গেল। বুধবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে ভারত নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে পরাজিত করে। খেলার প্রায় ৪০ ওভার অবধি টান টান উত্তেজনা ছিলএই ম্যাচে।একদিবসীয় বিশ্বকাপের এবার নিয়ে মোট চতুর্থ বার ফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ভারত। শেষবার এই ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামেই ধনি অধিনায়কত্বে বিশ্ব চাম্পিয়ান হয়েছিল টিম ইন্ডিয়া। লিগ পর্বের নটি ম্যাচের মধ্যে নয়টি জিতে লিগ শীর্ষে ছিল রোহিত শর্মার ছেলেরা। সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে জয়লাভের পর এই বিশ্বকাপে ভারত এখন ১০ এ ১০।টসে জিতে প্রথমে ব্যাট কারার সিদ্ধান্ত নেয় ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা। বিরাট কোহলি ও শ্রেয়াস আইয়ারের সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে ভারত ৪ উইকেটে ৩৯৭ রান করে। বিরাট তাঁর ৫০ তম সেঞ্চুরি করার সাথে সাথে ভেঙ্গে দেন কিংবদন্তি শচীন তেন্ডুলকারের একদিনের ক্রিকেটে ৪৯ টি সেঞ্চুরি করার রেকর্ড।𝗢𝗻𝗲 𝘀𝘁𝗲𝗽 𝗰𝗹𝗼𝘀𝗲𝗿! 🏆#TeamIndia 🇮🇳 march into the FINAL of #CWC23 🥳#MenInBlue | #INDvNZ pic.twitter.com/OV1Omv4JjI BCCI (@BCCI) November 15, 2023রোহিত শর্মা এবং শুভমান গিল শুরুতে দুর্দান্ত এক ওপেনিং পার্টনারশিপ দেয়। ৮.২ ওভারে তাঁরা ৭১ রানের পার্টনারশিপ গড়ে তোলে। টিম সাউদির বলে উইলিয়ামসনের এক অনবদ্য ক্যাচে আউট হওয়ার আগে ভারতীয় অধিনায়ক ২৯ বলে ৪৭ রান করে ভারতকে এক ঝোড়ো সূচনা করে দেন। গিলকে মাসল ক্র্যাম্প-র জন্য খেলার মাঝে মাঠ ছাড়তে না হলে হয়ত আরও একটি শতরানের সাক্ষী থাকত ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম। শেষ পর্বে আইয়ারের আউট হওয়ার পর মাঠে ফিরে এসে ৬৬ বলে ৮০ রান করে অপরাজিত থাকেন।শ্রেয়স আইয়ার-ও ৭০ বলে ১০৫ রানের এক অনবদ্য ইনিংস খেলেন। তিনি মাঝ পর্বে কোহলির সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ১৬৩ রানের জুটি গড়েছিলেন সেই ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই ভারত প্রথম ইনিংসে ৩৯৭ মত পাহাড় প্রমান রান করতে সমর্থ হয়। একদম স্লগ ওভারে ব্যাট করতে এসে ছোট্ট কিন্তু মহামূল্যবান একটি ইনিংস খেলে যান কে এল রাহুল। তাঁর মাত্র ২০ বলে ৩৯ রানের এই ঝোড়ো ইনিংস নিউজিল্যান্ডের সামনে ৩৯৮ রানের লক্ষ্যমাত্রা রাখতে খুব সাহায্য করে।নিউজিল্যান্ড ব্যাট করতে নেমে প্রথমেই বুমরাকে আক্রমন করে তাঁর ছন্দ ভেঙ্গে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। সাময়িক সফল-ও হয়। কিন্তু মহম্মদ শামি বল করতে এসেই ৩০ ও ৩৯ রানের মাথায় রাচিন রবীন্দ্র এবং ডেভন কনওয়ের দু দুটি উইকেট নিয়ে লড়ায়টা বিপক্ষের দিকে ছুঁড়ে দেন। দ্রুত দুটি উইকেট পরে গেলেও কিউইদের ড্যারিল মিচেল এবং কেন উইলিয়ামসন যে লড়ায় ফিরিয়ে দেন তা ক্রিকেট প্রেমীদের দীর্ঘ দিন মনে থাকবে। মিচেল এবং উইলিয়ামসন ১৮১ রানে অনবদ্য জুটি কিছুটা হলেও কিউয়িদের মনে আশার আলো সঞ্চার করে।We are #TeamIndia 🇮🇳🫶#CWC23 | #MenInBlue | #INDvNZ pic.twitter.com/HrUuQFzi1K BCCI (@BCCI) November 15, 2023যসপ্রীত বুমরার বলে ৫২ রানের মাথায় মিড অনে দাঁড়িয়ে কেন উইলিয়ামসনের এক সহজ ক্যাচ ফেলে দেন মহম্মদ শামি। সেমিফাইনালের মত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে সেই ভুলের মাসুল ভারত কে দিতে হয়নি শুধুমাত্র মহঃ শামি-র জন্যই। তাঁর অনবদ্য আগুনে ফাস্ট বোলিংয়ের দৌলতেই ছাড়খার হয়ে যায় কিউইরা। এক মাহাকাব্যিক বোলিং স্পেল বুধবার চাক্ষূস করল ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে উপস্থিত লক্ষাধিক দর্শক। ৯.৫ - ০ - ৫৭ - ৭ - এক স্বপ্নের স্পেল, তাও বিশ্বকাপ সেমিফাইনালের মত মঞ্চে। সামাজিক মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে নানা মন্তব্য-র মাঝে একটি খুবই প্রাসঙ্গিক - আজ সেমি ফাইনাল ছিল না - আজ শামি ফাইনাল। সত্যি আজ শামি-র ই দিন ছিল। জুড়িরা তাঁকেই এই ম্যাচের জন্য ম্যান-অব-দা-ম্যাচ বেছে নেন।সমগ্র ভারত এখন তাকিয়ে কলকাতায় অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় সেমিফাইনালে দিকে। সেখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে ৫ বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার ও দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই লড়াইয়ের বিজয়ী কে হয় সেই দিকেই লক্ষ্য আপামর ক্রিকেট ভক্তের। ১৯ নভেম্বর রবিবার আমেদাবাদ শ হরে নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ফাইনালে কে মুখোমুখি হবে ভারতের সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।

নভেম্বর ১৫, ২০২৩
খেলার দুনিয়া

BANG vs NZ Test-Liton Das : লিটন যেন রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার, তবু লড়াই জমাতে পারল না বাংলাদেশ

মাউন্ট মঙ্গানুইতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জিতে চমক দেখালেও টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের যে এখনও শৈশব কাটেনি প্রমাণ হয়ে গেল। ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় টেস্টে কিউয়িদের কাছে বিধ্বস্ত হল বেঙ্গল টাইগাররা। ইনিংস ও ১১৭ রানে দ্বিতীয় টেস্ট জিতে মান বাঁচাল নিউজিল্যান্ড। লিটন দাসের দুরন্ত সেঞ্চুরিও হার বাঁচাতে পারল না বাংলাদেশের। একদিকে ধস নামলেও রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের মতো ব্যাট করে গেলেন লিটন। দ্বিতীয় টেস্টেও টসে জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মোমিনুল হক। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেটে ৫২১ রান তুলে ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করেছিল নিউজিল্যান্ড। টম লাথাম করেন ২৫২। ডেভন কনওয়ে ১০৯। জবাবে বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১২৬ রানে। ট্রেন্ট বোল্ট নেন ৫ উইকেট।আরও পড়ুনঃ হাইকোর্টের নির্দেশে শুভেন্দুকে ছাড়াই গঙ্গাসাগরের নতুন কমিটিপ্রথম ইনিংসে ৩৯৫ রানে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশকে ফলোঅন করান নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক টম লাথাম। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশকে অবশ্য ততটা ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়তে হয়নি। চতুর্দশতম ওভারে ওপেনার সাদমান ইসলাম (২১) ফিরে গেলেও বাংলাদেশকে টেনে নিয়ে যান মহম্মদ নইম ও নাজমুল হাসান। নাজমুলকে (২৯) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন ওয়াগনার। মহম্মদ নইমকে (২৪) ফেরান সাউদি। অধিনায়ক মোমিনুল হক করেন ৩৭। একসময় ১২৮ রানে ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। সেখান থেকে ১০১ রানের জুটি গড়ে তোলেন নুরুল হাসান ও লিটন দাস। নুরুলকে (৩৬) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন ড্যারেল মিচেল। লিটন দাস ১১৪ বলে ১০২ রান করে জেমিসনের বলে আউট হন। ২৭৮ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের দ্বিতীয় ইনিংস। কাইল জেমিসন ৮২ রানে ৪ উইকেট নেন। নিল ওয়াগনার নেন ৭৭ রানে ৩ উইকেট।আরও পড়ুনঃ বঙ্গাস-র ভাতৃদ্বয়ের নতুন ইপি উই ফর লাভএদিকে, এটাই ছিল রস টেলরের জীবনের শেষ টেস্ট। শেষ টেস্টে ব্যাটে তেমন অবদান রাখতে পারেননি। মাত্র ২৮ রান করে আউট হন। তবে জীবনের শেষ টেস্টে একটা উইকেট তুলে নিলেন। ২০১৩ সালে শেষবার বাংলাদেশ সফরে গিয়ে বোলিং করেছিলেন। দীর্ঘ ৯ বছর পর হাত ঘুরিয়ে উইকেট তুলে নিলেন। টেস্টে তাঁর উইকেট সংখ্যা দাঁড়াল ৩।

জানুয়ারি ১১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

BANG vs NZ Test-Trent Bolt: বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনন্য কৃতিত্ব ট্রেন্ট বোল্টের

মাউন্ট মঙ্গানুইতে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্ট জিতে চমক দেখালেও সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে চরম বেকায়দায় বাংলাদেশ শিবির। মোমিনুল হকদের পরাজয় শুধু সময়ের অপেক্ষা। বাংলাদেশকে চরম বিপর্যয়ের মুখে ফেলার জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে নিউজিল্যান্ডের তিন ক্রিকেটারকে। ব্যাটে বাংলাদেশকে ব্যাকফুটে পাঠান টম লাথাম, ডেভন কনওয়ে। বোলিংয়ে ট্রেন্ট বোল্টকে। এদিন ৫ উইকেট নিয়ে ৩০০ উইকেটের মাইলস্টোনে পৌঁছে গেলেন বোল্ট। এদের সৌজন্যে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে বড় রানে পৌঁছে যায়। ৬ উইকেটে ৫২১ রান তুলে ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করে। ব্যাট করতে নেমে ট্রেন্ট বোল্টের দাপটে ১২৬ রানে শেষ হয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ইতিমধ্যেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় কি ফ্লুকে?আরও পড়ুনঃ আজব কান্ড! ছক্কা ছাড়াই ১ বলে ৭ রান!আগের দিনের ১ উইকেটে ৩৪৯ রান হাতে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। টম লাথাম ১৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। ডেভন কনওয়ে অপরাজিত ছিলেন ৯৯ রানে। ১৪৯ বলে দেশের মাঠে টানা দ্বিতীয় শতরানপূর্ণ করেন কনওয়ে। অন্যদিকে লাথাম দ্বিশতরানপূর্ণ করেন ৩০৫ বলে। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় নিউজিল্যান্ড তোলে ৪২৩/৫। কনওয়ে ১০৯ রান করে আউট হন। তিনি ছাড়াও মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে আউট হন রস টেলর (২৮), হেনরি নিকোলস (০) ও ড্যারেল মিচেল (৩)। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর আউট হন টম লাথাম। ৩৭৩ বলে তিনি করেন ২৫২। ১২৮.৩ ওভারে ৫২১/৬ তোলার পর ইনিংস সমাপ্তি ঘোষণা করে নিউজিল্যান্ড। টম ব্লান্ডেল ৫৭ রানে অপরাজিত থাকেন।আরও পড়ুনঃ ফাইনাল দেখে যেতে পারলেন না এন্টালি হকি অ্যাকাডেমির প্রাণপুরুষব্যাট করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ওভারেই বোল্টের বলে আউট হন সাদমান ইসলাম (৭)। পরের ওভারে মহম্মদ নইমকে (০) তুলে নেন টিম সাউদি। ২৭ রানের মধ্যেই ৫ উইকেট হারায় বাংলাদেস। এরপর নুরুল হাসান ও ইয়াসির আলি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। জুটিতে ওঠে ৬০। নুরুলকে (৪১) তুলে নিয়ে জুটি ভাঙেন সাউদি। ইয়াসির আলি (৫৫) ছাড়া বাংলাদেশের আর কোনও ব্যাটার প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারেননি। ৪১.২ ওভারে ১২৬ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস। ৪৩ রানে ৫ উইকেট নেন ট্রেন্ট বোল্ট। ২৮ রানে ৩ উইকেট নেন টিম সাউদি। কাইল জেমিসন ৩২ রানে নেন ২ উইকেট। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ এখনও ৩৯৫ রানে পিছিয়ে রয়েছে।

জানুয়ারি ১০, ২০২২
খেলার দুনিয়া

BANG vs NZ Test : আজব কান্ড!‌ ছক্কা ছাড়াই ১ বলে ৭ রান!‌

নো বলে ছক্কা ছাড়াই সাত রান। হ্যাঁ, এমনই আজব ব্যাপার ঘটেছে বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্টে। আর এমন কান্ডই ঘটিয়েছেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা।রবিবার থেকে ক্রাইস্টচার্চে শুরু হয়েছে বাংলাদেশনিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় টেস্ট। টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে প্রথমে ব্যাট করতে পাঠায় বাংলাদেশ। ম্যাচের ২৬তম ওভারে বাংলাদেশের জোরে বোলার ইবাদত হোসেন বোলিং করছিলেন। তাঁর ওই ওভারের শেষ বল উইল ইয়ংয়ের ব্যাটের কানায় লেগে দ্বিতীয় স্লিপে লিটন দাসের কাছে যায়। বল তাঁর হাতে লেগে থার্ডম্যান অঞ্চলের দিতে চলে যায়। তাস্কিন আমেদ বল ধরে উইকেটকিপারের দিকে থ্রো করার সময় দৌড়ে ৩ রান নেওয়ার জন্য দৌড়চ্ছিলেন উইল ইয়ং ও টম লাথাম। উইল ইয়ং তখনও নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে পৌঁছননি। তাঁকে আউট করার জন্য উইকেটকিপার নুরুল হাসান নন স্ট্রাইকিং প্রান্তে বল ছোঁড়েন। তাঁর সেই থ্রো ধরতে পারেননি বাংলাদেশের দুই ফিল্ডার। বল বাউন্ডারি লাইন অতিক্রম করে যায়। ফলে ১ বলে ওভার থ্রোসহ ৭ রান পায় নিউজিল্যান্ড।Will Young scored a SEVEN! 😮 #NZvBAN pic.twitter.com/51XDVc5oOY ESPNcricinfo (@ESPNcricinfo) January 9, 2022এদিন বাংলাদেশের টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত বুমেরাং হয়ে যায়। বাংলাদেশ অধিনায়ক মোমিনুল হকের পরিকল্পনা ছিল জোরে বোলিং দিয়ে হেগলি ওভালের বাইশ গজে বাজিমাত করার। কিন্তু এদিন নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডারের ৩ ব্যাটার সেই সুযোগ দেননি বাংলাদেশের জোরে বোলারদের। ওপেনিং জুটিতে ১৪৮ রান তোলেন টম লাথাম ও উইল ইয়ং। ১১৪ বলে ৫৪ রান করে শরিফুল ইসলামের বলে মহম্মদ নইমের হতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন উইল ইয়ং।আরও পড়ুনঃ নির্বাচনী প্রচারে কোভিড বিধি ভঙ্গের অভিযোগে গ্রেফতার বিজেপি বিধায়কএরপর আর নিউজিল্যান্ডের দুই ব্যাটারকে টলাতে পারেননি বাংলাদেশ বোলারা। অবিচ্ছিন্ন দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে টম লাথাম ও ডেভন কনওয়ে ২০১ রান তুলেছেন। প্রথম দিনের শেষে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৩৪৯। ১৮৬ রান করে টম লাথাম ও ৯৯ রানে ডেভন কনওয়ে ক্রিজে রয়েছেন।

জানুয়ারি ০৯, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Bangladesh Win: ইতিহাস গড়ে মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের ড্রেসিংরুমে বেঙ্গল টাইগারদের গর্জন, ভিডিও ভাইরাল

মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের ড্রেসিংরুমে একঝাঁক রয়্যাল বেঙ্গল টাইগারের গর্জন। মোমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, এবাদত হোসেনদের কন্ঠে আমরা করব জয় একদিন। টেস্টের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট জয় স্বপ্ন বাড়িয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে।আরও পড়ুনঃ টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে রূপকথা বাংলাদেশেরভোরের আলো ফোটার আগেই দেশবাসী টিভির সামনে। ইতিহাসের সাক্ষী থাকার অপেক্ষায়। মোমিনুলরা জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছনোর পরই আবেগে ভেসে যান কোটি কোটি বাঙালী। এতো গেল দেশের কথা। মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ের ড্রেসিংরুমে অন্য ছবি। ধরা পড়েছে বাঙালির আবেগ। মোমিনুল, মুশফিকুরদের কন্ঠে আমরা করব জয় একদিন। আগামীর শপথ। হার না মানা জেদের বহিঃপ্রকাশ। টেস্ট ক্রিকেটে ইতিহাস তৈরির সূচনা নিউজিল্যান্ডের মাটিতেই যেন তৈরি করলেন মোমিনুলরা। নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটকে নতুন প্রভাতের দিশা দেখালেন।Bangladesh Team dressing room celebrations following the historic win at Mount Maunganui.#BCB #cricket #BANvsNZ pic.twitter.com/78pGFQ30wP Bangladesh Cricket (@BCBtigers) January 5, 2022টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বসেরাদের তাদের মাটিতেই হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করে আবেগে ভাসছিলেন বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। একসময় ভলি খেলতেন। সেখান থেকে ক্রিকেটে উত্তরন এবাদত হোসেনের। বাংলাদেশের জয়ের নায়ক তিনিই। ম্যাচের সেরা এবাদত হোসেন বলছিলেন, আমি বাংলাদেশ বায়ুসেনার একজন সৈনিক। কীভাবে স্যালুট করতে হয় জানি। ভলিবল খেলোয়াড় থেকে টেস্ট ক্রিকেটার হওয়ার পেছনে লম্বা ইতিহাস রয়েছে। গত ১১ বছরে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আমরা কখনও জিতিনি। আমাদের দলও কখনও জেতেনি। কিন্তু নিউজিল্যান্ড আসার আগে আমরা একটা লক্ষ্য স্থির করে নিয়েছিলাম। আমরা প্রত্যেকেই হাতে হাত মিলিয়ে প্রতিজ্ঞা করেছিলাম, আমাদের জিততেই হবে। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আমরা এটা করে দেখাতে পারি। সেটাই করে দেখিয়েছি। এবাদত আরও বলেন, আমরা বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছি। আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্মও আশা করছি জিতবে।আরও পড়ুনঃ গাঙ্গুলি পরিবারে আবার করোনার হানা, আক্রান্ত সৌরভের কন্যা সানাটেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়েছেন, বিশ্বাসই করতে পারছেন না বাংলাদেশের অধিনায়ক মোমিনুল হক। তিনি বলেন, আমার কাছে সত্যিই অবিশ্বাস্য লাগছে। এই জয় আমি ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। আগের রাতে ঘুমাতে পারিনি। কী হবে এটা ভেবেই টেনশনে ছিলাম। গত দুবছরে আমরা খুব বেশি টেস্ট ম্যাচ খেলিনি। আমরা টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতি করার জন্য মুখিয়ে রয়েছি।

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Bangladesh vs New Zealand : ‌টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে রূপকথা বাংলাদেশের

বাংলাদেশের আকাশে তখনও সূর্য ওঠেনি। ফোটেনি ভোরের আলো। তবুও জেগে উঠেছিল আপামর কোটি কোটি বাঙালী। ইতিহাসের সাক্ষী থাকার অপেক্ষায়। দেশবাসীকে হতাশ করেননি মোমিনুল হকরা। মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে তৈরি করলেন রূপকথা। নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতে ইতিহাস বাংলাদেশের। কিউয়িদের ৮ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেলেন মোমিনুলরা। বাংলাদেশের ইতিহাস তৈরির মূল কারিগর এবাদত হোসেন। ধুলোয় মিশে গেল টেস্ট ক্রিকেটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সম্মান। টানা ১৭ ম্যাচ পর টেস্ট ক্রিকেটে অপরাজিত থাকার তকমা হারাল কিউয়িরা।বাংলাদেশর জয় যে সময়ের অপেক্ষা, চতুর্থদিন শেষবেলাতেই ইঙ্গিতটা পাওয়া গিয়েছিল। এবাদত হোসেনের দুরন্ত বোলিংয়ে ভেঙে পড়েছিল নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। চতুর্থ দিনের শেষে নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ১৪৭/৫। ক্রিজে ছিলেন রস টেলর ও রাচিন রবীন্দ্র। আগের দিন যেখানে শেষ করেছিলেন পঞ্চম দিন সকালে সেখান থেকেই শুরু করেছিলেন বাংলাদেশর জোরে বোলার এবাদত হোসেন। এদিন কিউয়িদের প্রথম ধাক্কা দেন তিনিই। সকালেই রস টেলরকে (৪০) তুলে নেন। এক ওভার পরেই ফেরান কাইল জামেসনকে (০)। টেলর আউট হওয়ার পরপরই এটা পরিস্কার হয়ে যায় যে কিউয়িরা আর বেশিক্ষণ লড়াই করতে পারবে না। নিউজিল্যান্ডের বাকি লেজটুকু ছাঁটেন তাস্কিন আমেদ ও মেহেদি হাসান। তাস্কিন তুলে নেন রাচিন রবীন্দ্র (১৬) ও টিম সাউদিকে (০)। অন্যদিকে মেহেদি হাসান ফেরান ট্রেন্ট বোল্টকে (৮)। ৭৩.৪ ওভারে ১৬৯ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। এবাদত হোসেন ৪৬ রানে ৬টি এবং তাস্কিন আমেদ ৩৬ রানে ৩ উইকেট নেন।প্রথমে ব্যাট করে নিউজিল্যান্ড তুলেছিল ৩২৮। জবাবে বাংলাদেশ তুলেছিল ৪৫৮। ফলে জয়ের জন্য বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪০। দ্বিতীয় ওভারেই সাদমান ইসলামকে (৩) তুলে নিয়ে বাংলাদেশকে প্রথম ধাক্কা দেন টিম সাউদি। দলের ৩৪ রানের মাথায় আউট হন নাজমুল হোসেন (১৭)। ততক্ষনে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ১৬.৫ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৪২ রান তুলে মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে ইতিহাস তৈরি করে ফেলেন মোমিনুলরা। মোমিনুল ১৩ ও মুশফিকুর রহিম ৫ রানে অপরাজিত থাকেন।

জানুয়ারি ০৫, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Bangladesh VS New Zealand : টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে ইতিহাস তৈরি করতে পারবে বাংলাদেশ?‌ সামনে সুবর্ণ সুযোগ

টি২০ বিশ্বকাপে জঘন্য পারফরমেন্সের কারনে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে দেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে গিয়েছিল। বিশ্বকাপে চূড়ান্ত ব্যর্থতার পর লাল বলের ক্রিকেটে উল্টোপুরান। নিউজিল্যান্ডের ঘরের মাঠে ইতিহাস তৈরির হাতছানি বাংলাদেশের সামনে। টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে চালকের আসনে বাংলাদেশ। চতুর্থ দিনের শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৪৭ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বেকায়দায় নিউজিল্যান্ড। মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে অনুষ্ঠিত দুদেশের মধ্যে প্রথম টেস্টে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। ডেভন কনওয়ের ১২২ রানের উপর ভর করে নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংসে তোলে ৩২৮। জবাবে বাংলাদেশ তোলে ৪৫৮। তৃতীয় দিনের শেষে বাংলাদেশের রান ছিল ৬ উইকেটে ৪০১। বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে এদিন ৫৭ রান যোগ করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ রান করেন মোমিনুল হক। তিনি করেন ৮৮। লিটন দাস করেন ৮৬। ট্রেন্ট বোল্ট ৮৫ রানে ৪ উইকেট নেন। নিল ওয়াগনার নেন ৩ উইকেট। ১৩০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২৯ রানে প্রথম উইকেট হারায় কিউয়িরা। ১৪ রান করে ফিরে যান অধিনায়ক টম লাথাম। প্রথম ইনিংসে শতরানকারী ডেভন কনওয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যর্থ। মাত্র ১৪ রান করে তিনি এবাদত হোসেনের বলে আউট হন। এরপর দলকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন উইল ইয়ং ও রস টেলর। দিনের শেষ বেলায় আবার জ্বলে ওঠেন এবাদত হোসেন। ধস নামান নিউজিল্যান্ড শিবিরে। ৫৪ তম ওভারের তৃতীয় বলে তুলে নেন উইল ইয়ংকে। ১৭২ বলে ৬৯ রান করে তিনি আউট হন। ২ বল পরেই এবাদত ফেরান হেনরি নিকোলসকে (০)। এক ওভার পরে টম ব্লান্ডেলকে (০) তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে গভীর সঙ্কটে ফেলে দেন। ১৩৬ রানেই ৩টি উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। দিনের শেষে তাদের সংগ্রহ ১৪৭/৫। ক্রিজে রয়েছেন রস টেলর (৩৭) ও রাচিন রবীন্দ্র (৬)। দুই ইনিংস মিলিয়ে নিউজিল্যান্ড ১৭ রানে এগিয়ে। ৩৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন এবাদত হোসেন। বড় কোনও অঘটন না ঘটলে এই টেস্ট জিতে ইতিহাস তৈরি করতে পারে বাংলাদেশ।

জানুয়ারি ০৪, ২০২২
খেলার দুনিয়া

Devon Conway : বিদেশ ও দেশের মাঠে জীবনের প্রথম টেস্টেই সেঞ্চুরি করে অনন্য নজির কনওয়ের

গত বছরের শেষ দিকটা একেবারেই ভাল যায়নি ডেভন কনওয়ের কাছে। টি২০ বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে রান পাননি। ব্যর্থতায় এতটাই হতাশ হয়েছিলেন যে, ড্রেসিংরুমে ফিরে ব্যাট আছড়ে ফেলতে গিয়ে হাতে চোট পান। ফাইনালে খেলতে পারেননি। এমনকি ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজ থেকেও ছিটকে গিয়েছিলেন। পুরনো বছরের হতাশা কাটিয়ে নতুন বছরটা দারুণভাবে শুরু করলেন নিউজিল্যান্ডের এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম টেস্টেই দুর্দান্ত সেঞ্চুরি করে দলকে বড় রানের প্ল্যাটফর্ম গড়ে দিলেন। তাঁর সেঞ্চুরির সুবাদে প্রথম দিনের শেষে নিউজিল্যান্ড ৫ উইকেটে তুলেছে ২৫৮।মাউন্ট মাউঙ্গানুইয়ে বাইশ গজ ঘাসে ভরা। টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল বাংলাদেশ। চতুর্থ ওভারেই নিউজিল্যান্ডকে ধাক্কা দেন শরিফুল ইসলাম। তুলে নেন দায়িত্বপ্রাপ্ত অধিনায়ক টম লাথামকে (১)। এরপরই উইল ইয়ংকে সঙ্গে নিয়ে রুখে দাঁড়ান ডেভনন কনওয়ে। শুরুর ধাক্কা দারুণভাবে সামলে দেন এই দুই ব্যাটার। দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে দুজনে মিলে তোলেন ১৩৮ রান। এরপর কনওয়ের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে ৫২ রান করে রান আউট হন ইয়ং। রস টেলর (৩১) খুব বেশিক্ষণ কনওয়েকে সঙ্গ দিতে পারেননি। তাঁকেও ফেরান শরিফুল ইসলাম। দলের ২২৭ রানের মাথায় মোমিনুল হকের বলে উইকেটের পেছনে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন কনওয়ে। ২২৭ বলে তিনি করেন ১২২। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৬টি চার ও ১টি ছয়। জীবনের চতুর্থ টেস্টে সপ্তম ইনিংসে এটি কনওয়ের দ্বিতীয় শতরান। অভিষেকে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তিনি লর্ডসে দ্বিশতরান করেছিলেন। টেস্টে তাঁর দুটি অর্ধশতরানও রয়েছে, ব্যাটিং গড় ৭১.৫৭। দেশের মাটিতে প্রথম টেস্ট খেলতে নেমেই সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরি করে দারুণ অনুভূতি কনওয়ের। কৃতিত্ব দিয়েছেন রস টেলরকে। কনওয়ে বলেন, ব্যাট করার সময় ক্রিজে রস টেলরের নানা ইতিবাচক পরামর্শে সেঞ্চুরি করেত পেরেছি। এই সেঞ্চুরি দীর্ঘদিন মণিকোঠায় থাকবে। চ্যালেঞ্জিং উইকেটের কথাও স্বীকার করেছেন কনওয়ে। তিনি বলেন, উইকেটে ঘাস আছে। সকালের দিকে ব্যাট করা যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং ছিল। সকালের কঠিন সময় কাটিয়ে দিতে পারলে পরের দিকে ব্যাট করা সহজ হয়ে যাবে এটা জানতাম। সেটাই হয়েছে। দিনের শেষে নিউজিল্যান্ড তুলেছে ২৫৮/৫। হেনরি নিকোলস ৩২ রান করে ক্রিজে রয়েছেন।

জানুয়ারি ০১, ২০২২
খেলার দুনিয়া

India vs New Zealand : ‌‌জোরে বোলার থেকে স্পিনার, আজাজকে দারুণ উপহার ভারতীয় দলের

ভারতের বিরুদ্ধে মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে জীবনের সেরা বোলিং করেছেন নিউজিল্যান্ডের আজাজ প্যাটেল। প্রথম ইনিংসে তুলে নিয়েছিলেন ১০ উইকেট। কিংবদন্তী স্পিনার জিম লেকার, অনিল কুম্বলের সঙ্গে এক আসনে বসিয়েছেন নিজেকে। নিউজিল্যান্ডের এই স্পিনারের কৃতিত্বকে কুর্ণিশ জানাল ভারতীয় টিম ম্যানেজমেন্ট। সোমবার ম্যাচের শেষে ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে ক্রিকেটারদের সই করা জার্সি উপহার দেওয়া হয় আজাজ প্যাটেলকে। বিসিসিআই টিভির পক্ষ থেকে ভারতীয় দলের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন আজাজের সাক্ষাৎকারও নেন।টেস্টের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ শনিবার ভারতীয় ইনিংস শেষে যখন আজাজ প্যাটেলকে সামনে রেখে সাজঘরে ফিরছিল নিউজিল্যান্ড দল, গোটা স্টেডিয়াম উঠে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছিল আজাজকে। আর এদিন ম্যাচ শেষে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ভারতীয় দলের পক্ষ থেকে সতীর্থদের সই করা জার্সি আজাজের হাতে তুলে দেন। ভারতীয় দলের কাছ থেকে এইরকম উপহার পেয়ে আপ্লুত আজাজ। ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা শুধু আমার কাছে নয়, আমার স্ত্রী, আমার মাবাবা, পরিবারের কাছে বিশেষ মুহূর্ত। আমার কাছে অন্যতম স্মরণীয় দিন। এইরকম কৃতিত্ব স্থাপন করতে পারাটা আমার ক্রিকেটজীবনে দারুণ ব্যাপার। আমি সত্যিই ভাগ্যবান যে এইরকম কৃতিত্ব অর্জন করতে পেরেছি।You just cannot miss this 🗣️ 🎥@ashwinravi99 @AjazP in one frame 👍 👍Stay tuned for this folks ⌛Interview coming up soon on https://t.co/Z3MPyesSeZ#TeamIndia #INDvNZ @Paytm pic.twitter.com/mCzzMuQ7aZ BCCI (@BCCI) December 6, 2021মুম্বইয়েই জন্ম আজাজ প্যাটেলের। মুম্বইয়ের ক্রিকেট ময়দান তাঁর কাছে পরিচিত। ৭ বছর বয়সে বাবামার হাত ধরে নিউজিল্যান্ড পাড়ি দেন। স্বপ্ন দেখতেন ওয়াংখেড়েতে টেস্ট খেলার। অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় আজাজ প্যাটেল বলেন, এই ভারত সফরটা আমার কাছে অন্যরকম ছিল। একসময় স্বপ্ন দেখতাম ভারতে এসে ওয়াংখেড়েতে টেস্ট খেলব। সেই স্বপ্নপূরণ হয়েছে। আর সবথেকে বড় পাওনা এই ওয়াংখেড়েতেই ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো। আজাজ আরও বলেন, আমি নিজেকে ভাগ্যবান বলে মনে করব। ইশ্বরকে ধন্যবাদ দেব এইরকম কৃতিত্ব অর্জন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য। দীর্ঘসময় ধরে এক জায়গায় বল রাখার পুরস্কার পেয়েছি। জোরে বোলার হিসেবে ক্রিকেটজীবন শুরু করেছিলেন আজাজ প্যাটেল। মাত্র ২ বছর আগে স্পিন করার দিকে মনোযোগ দেন। আর সেই স্পিন বোলিংই তাঁকে ইতিহাসে ঢুকিয়ে দিয়েছে। এই প্রসঙ্গে আজাজ প্যাটেল বলেন, নিউজিল্যান্ডের পরিবেশে সবাই জোরে বোলার হওয়ার চেষ্টা করে। আমি পেস বোলিং করতাম। কিন্তু ভাল জোরে বোলার হওয়ার জন্য যে উচ্চতা প্রয়োজন, তা আমার নেই। তাই মাত্র ২ বছর আগে স্পিন বোলিং করতে শুরু করি। দুবছরে কঠোর পরিশ্রম করে নিজেকে এই জায়গায় নিয়ে এসেছি।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India vs New Zealand Test : ‌৩৭২ রানে বড় জয় ভারতের, হেডলিকে টপকে গেলেন অশ্বিন

তৃতীয় দিনের খেলার শেষে ভারতের জয় ছিল শুধু সময়ের অপেক্ষা। নিউজিল্যান্ডকে দ্বিতীয় টেস্টে হারাতে চতুর্থ দিন ১ ঘন্টাও সময় লাগল না। মাত্র ৪৫ মিনিটের মধ্যেই কিউয়িদের ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ৩৭২ রানে বড় জয় পেল ভারত। সিরিজ জয়ের পাশাপাশি একই সঙ্গে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের প্রথম সংস্করণের ফাইনালে হারের মধুর প্রতিশোধ নিলেন বিরাট কোহলিরা। আগের দিনে নিউজিল্যান্ডের রান ছল ৪৫ ওভারে ৫ উইকেটে ১৪০। হেনরি নিকোলস ৩৬ এবং রাচিন রবীন্দ্র ২ রানে ক্রিজে ছিলেন। কিউয়িদের বাকি ৫ উইকেট তুলে নিতে ভারতীয় বোলারদের ১২ ওভারও লাগল না। মাত্র ১১.৩ ওভারেই এদিন বাকি ৫ উইকেট তুলে নেন দুই স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও জয়ন্ত যাদব। চতুর্থ দিন সকালে নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন জয়ন্ত যাদব। দিনের সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে রাচিন রবীন্দ্রকে তুলে নেন। ৫০ বলে ১৮ রান করে চেতেশ্বর পুজারার হাতে ক্যাচ দেন রাচিন। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ১৬২। ১ ওভার পরেই সেই জয়ন্তর বলে লেগ বিফোর আউট হন কাইল জেমিসন (০)। ১ বলের ব্যবধানে টিম সাউদিকেও (০) তুলে নেন জয়ন্ত। উইলিয়াম সমারভিলেও (১) তাঁর শিকার। নিউজিল্যান্ডের শেষ উইকেট তুলে নেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। তাঁর বলে হেনরি নিকোলসকে (৪৪) স্টাম্পড করেন ঋদ্ধিমান সাহা। নিউজিল্যান্ড গুটিয়ে যায় ১৬৭ রানে। ৪৯ রানে ৪ উইকেট পান জয়ন্ত যাদব। ৩৪ রানে ৪ উইকেট রবিচন্দ্রন অশ্বিনের। দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮ উইকেট নেওয়ায় এই বছরে টেস্টে অশ্বিনের উইকেট সংখ্যা ৫২। আর নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেস্ট সিরিজে ৬৬ উইকেট তুলে নিয়ে স্যার রিচার্ড হেডলিকে টপকে গেলেন অশ্বিন। আজাজ প্যাটেল এই টেস্টে ১৪ উইকেট পেলেও ম্যাচের সেরা হয়েছেন মায়াঙ্ক আগরওয়াল।নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩৭২ রানে বড় জয় পেলেও আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছে ভারত। ভারতের ঝুলিতে ৪২ পয়েন্ট। এই বছর দুটি সিরিজ মিলিয়ে ভারত এখনও পর্যন্ত খেলেছে ৬টি টেস্ট। ৩টিতে জয় এসেছে। ১টি হার। ২টি ড্র।

ডিসেম্বর ০৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India vs New Zealand : ‌‌‌জিম লেকার, অনিল কুম্বলের কৃতিত্ব স্পর্শ আজাজ প্যাটেলের, তবু চালকের আসনে ভারত

জন্মভূমিতেই বল হাতে কামাল আজাজ প্যাটেলের। স্পর্শ করলেন জিম লেকার অনিল কুম্বলের কৃতিত্ব। এক ইনিংসে ১০ উইকেট নিয়ে অনন্য নজির গড়লেন নিউজিল্যান্ডের এই স্পিনার। তাঁর দাপটেই বড় রানের স্বপ্ন দেখেও নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৩২৫ রানে শেষ ভারত। আজাজের ১০ উইকেট সত্ত্বেও ম্যাচে অবশ্য চালকের আসনে বিরাট কোহলিরা। ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে যায় কিউয়িদের ইনিংস। দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে তুলেছে কোনও উইকেট না হারিয়ে ৬৯। প্রথম দিনের ২২১/৪ রান হাতে নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল ভারত। মায়াঙ্ক আগরওয়াল ১২০ রানে ও ঋদ্ধিমান সাহা ২৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। দিনের দ্বিতীয় ও নিজের প্রথম ওভারে পরপর দুবলে ঋদ্ধিমান (২৭) ও রবিচন্দ্রন অশ্বিনকে (০) তুলে নেন আজাজ। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির সময় ভারতের রান ছিল ৯৮ ওভারে ২৮৫/৬। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির পর দ্বিতীয় ওভারেই মায়াঙ্ক আগরওয়ালকে তুলে নেন আজাজ প্যাটেল। ৩১১ বলে ১৫০ রান করে উইকেটের পেছনে টম ব্লান্ডেলের হাতে ধরা পড়েন মায়াঙ্ক। ভারতের রান তখন ২৯১। অক্ষর প্যাটেল ১২৮ বলে ৫২ রান করে আজাজের বলেই লেগ বিফোর হন। জল্পনা চলছিল জিম লেকার ও অনিল কুম্বলের রেকর্ড স্পর্শ করতে পারবেন কিনা তা নিয়ে। শেষ পর্যন্ত জয়ন্ত যাদব (১২) ও মহম্মদ সিরাজকে (৪) ৩ বলের ব্যবধানে তুলে নিয়ে লেকার, কুম্বলেদের তালিকায় নিজের নাম লেখান আজাজ প্যাটেল। ৩২৫ রানে গুটিয়ে যায় ভারতের প্রথম ইনিংস। ৪৭.৫ ওভার বল করে ১১৯ রানে ১০ উইকেট নেন আজাজ প্যাটেল।নিউজিল্যান্ডও যে ওয়াংখেড়ের বাইশ গজে ভারতীয় বোলারদের সামনে দঁাড়াতে পারবে না, আজাজ প্যাটেলের বোলিংয়েই তার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। বাস্তবে তাইই ঘটে। মাত্র ৬২ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংস। ভারতের বিরুদ্ধে এটাই কিউয়িদের সর্বনিম্ন রানের ইনিংস। তাছাড়া ভারতের মাটিতে টেস্টে এত কম রানে আর কোনও দল গুটিয়ে যায়নি। একসময় নিউজিল্যান্ডের রান ছিল ৬ উইকেটে ৩৮। জেমিসনের ১৭ রান নিউজিল্যান্ডকে ৬০ রানের গন্ডি পার করে দেয়। নিউজিল্যান্ডের হয়ে তিনিই সর্বোচ্চ রান করেন। তিনি ছাড়া দুঅঙ্কের রানে পৌঁছন ওপেনার টম লাথাম (১০)। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ৮ রানে ৪ উইকেট নেন। মহম্মদ সিরাজ ১৯ রানে নেন ৩ উইকেট। অক্ষর প্যাটেল ১৪ রানে ২টি ও জয়ন্ত যাদব ১৩ রানে ১টি উইকেট পান। সুযোগ পেয়েও নিউজিল্যান্ডকে ফলো অন করাননি বিরাট কোহলি। প্রথম ইনিংসে ২৬৩ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে ভারত। দ্বিতীয় দিনের শেষে কোনও উইকেট না হারিয়ে তুলেছে ৬৯। মায়াঙ্ক আগরওয়াল ৩৮ রানে ও চেতেশ্বর পুজারা ২৯ রানে ক্রিজে রয়েছেন। সব মিলিয়ে এখনও পর্যন্ত ৩৩২ রানে এগিয়ে হয়েছে ভারত।

ডিসেম্বর ০৪, ২০২১
খেলার দুনিয়া

India vs New Zealand : অক্ষরের ৫ উইকেট, স্পিনারদের দাপটে ম্যাচে ফিরল ভারত

দ্বিতীয় দিনের শেষে নিউজিল্যান্ডকে দেখে মনে হচ্ছিল করা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দেবে ভারতকে। তৃতীয় দিনের প্রথম সেশনেও দারুণ ব্যাট করছিলেন টম লাথামরা। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে স্পিনারদের দাপটে ম্যাচে ফেরে ভারত। সৌজন্যে অক্ষর প্যাটেল।আগের দিনের বিনা উইকেটে ১২৯ রান নিয়ে তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করে নিউজিল্যান্ড। শুরু থেকেই ভারতীয় স্পিনারদের দারুণ সামলাচ্ছিলেন দুই ওপেনার টম লাথাম ও উইল ইয়ং। নিউজিল্যান্ডকে প্রথম ধাক্কা দেন রবিচন্দ্রন অশ্বিন। ৬৬.১ ওভারে উইল ইয়ংয়ের বিরুদ্ধে ওঠা কট বিহাইন্ডের জোরালো আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার নীতীন মেনন। ঋদ্ধিমান সাহার পরিবর্ত হিসেবে উইকেটকিপিং করতে নামা শ্রীকার ভরতের পরামর্শে রিভিউ নেন অজিঙ্কা রাহানে। রিভিউতে দেখা যায় অশ্বিনের বল ইয়ংয়ের ব্যাট ছুঁয়ে কিপারের হাতে জমা পড়েছে। ২১৪ বলে ৮৯ রানে আউট হন উইল ইয়ং। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ১৫১।এরপর দলকে টানছিলেন টম লাথাম ও অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন। দলের ১৯৭ রানের মাথায় উমেশ যাদবের বলে লেগ বিফোর হন কিউয়ি অধিনায়ক। ৬৪ বল খেলে ১৮ রান করেন তিনি। এরপরই শুরু হয় ভারতীয় স্পিনারদের দাপট। অক্ষর প্যাটেলের স্পিনের সামনে দিশেহারা হয়ে পড়েন নিউজিল্যান্ডের ব্যাটাররা। এক ওভারের ব্যবধানে রস টেলর (১১) ও হেনরি নিকোলসকে (২) তুলে নেন অক্ষর প্যাটেল। দুরন্ত ব্যাট করতে থাকা টম লাথামও তাঁর শিকার। ২৮২ বলে ৯৫ রান করে অক্ষরের বলে স্টাম্পড হন লাথাম। নিউজিল্যান্ডের রান তখন ২২৭/৫। লাথাম আউট হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের বড় রানের ইনিংসের স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। টম ব্ল্যান্ডেল (১৩), টিম সাউদিকে (৫) তুলে নিয়ে ৫ উইকেট পূর্ন করেন অক্ষর প্যাটেল। ২৭০ রানে ৮ উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। এরপর বেশিক্ষণ লড়াই জারি রাখতে পারেনি কিউয়িরা। ২৯৬ রানে গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের ইনিংস। শেষ দুটি উইকেট তুলে নেন অশ্বিন। ৮২ রানে ৩ উইকেট নেন তিনি। অন্যদিকে, ৬২ রানে ৫ উইকেট নেন অক্ষর প্যাটেল।৪৯ রানে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় ভারত। দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই শুভমান গিলকে তুলে নেন কাইল জেমিসন। মাত্র ১ রান করে বোল্ড হন শুভমান। তৃতীয় দিনের শেষে ভারত তুলেছে ১৪/১। দুই ইনিংস মিলিয়ে এগিয়ে রয়েছে ৬১ রানে।

নভেম্বর ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

Wriddhiman Saha : কানপুরেই জীবনের শেষ টেস্ট খেলে ফেললেন ঋদ্ধিমান?

কানপুরেই কি জীবনের শেষ টেস্ট খেলে ফেললেন ঋদ্ধিমান সাহা? প্রশ্নটা ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে। যদি শেষ পর্যন্ত এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ভবিষ্যৎ কিন্তু সেই দিকেই এগোচ্ছে। জল্পনা তৈরি হয়েছে কানপুরে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন উইকেটকিপিং করতে না নামায়।বিশ্বের সব দেশই অলরাউন্ডার উইকেটকিপার দলে নিতে চায়। অর্থাৎ উইকেটকিপিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও যিনি দলকে ভরসা দিতে পারবেন। উইকেটের পেছনে গ্লাভস হাতে ঋদ্ধিমানের দক্ষতা প্রশ্নাতীত। কিন্তু ব্যাটিংয়ে অনেকটাই পিছিয়ে। ব্যাটিংয়ের জন্যই ঋষভ পন্থ নির্বাচকদের আস্থা অর্জন করে নিয়েছেন। ঋদ্ধিমানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছেন শ্রীকার ভরত, ঈশান কিষাণরা। ঋষভ পন্থকে নির্বাচকরা বিশ্রাম দেওয়ায় নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে খেলার সুযোগ পেয়েছেন ঋদ্ধিমান। কিন্তু ব্যাট হাতে দলকে একেবারেই ভরসা দিতে পারেননি। গত বছর ডিসেম্বরে অ্যাডিলেডে শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ঋদ্ধিমান। অস্ট্রেলিয়ার কাছে ভারত সেই ম্যাচে পরাজিত হওয়ার পর ঋষভ পন্থ টেস্ট দলে সুযোগ পেয়ে জায়গা পাকা করে নেন। টেস্ট দল থেকে বাদ পড়ার পর ঘরোয়া ক্রিকেট কিংবা আইপিএলেও দাগ কাটতে পারেননি ঋদ্ধি।ঘাড়ে যন্ত্রণার জন্য নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে কানপুরে প্রথম টেস্টের তৃতীয় দিন মাঠে নামতে পারেননি ঋদ্ধিমান। ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের পক্ষ থেকে এদিন খেলা শুরুর আগেই জানিয়ে দেওয়া হয়, ঘাড়ে টান ধরায় ঋদ্ধি আজ খেলতে পারবেন না। মেডিক্যাল টিম তাঁর চিকিৎসা করছে। ঋদ্ধির পরিবর্তে উইকেটকিপিং করছেন কেএস ভরত।১৯৪৬ সালের পর সবচেয়ে বেশি বছরের উইকেটকিপার হিসেবে টেস্ট খেলছেন ঋদ্ধিমান। কানপুর টেস্টের প্রথম দিন ঋদ্ধির বয়স ছিল ৩৭ বছর ৩২ দিন। ফারুখ ইঞ্জিনিয়ার ৩৬ বছর ৩৩৮ দিনের মাথায় নিজের শেষ টেস্ট খেলতে নেমেছিলেন। ঋদ্ধি ইঞ্জিনিয়ারের রেকর্ড টপকালেন। তবে ভারতীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বয়সের উইকেটকিপার হিসেবে টেস্ট খেলার রেকর্ডটি দখলে রয়েছে দত্তরাম হিন্দেলকরের। তিনি শেষ টেস্ট খেলেছিলেন ৩৭ বছর ২৩১ দিন। এই সিরিজের পর ঋদ্ধিমান যদি অবসর নেন, তাহলে দত্তরাম হিন্দেলকরের রেকর্ডটিও অক্ষত থাকবে। অবসর না নিলেও ঋদ্ধির দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাওয়া কঠিন।/p

নভেম্বর ২৭, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs NZ Test : শ্রেয়স আয়ারের অভিষেকে সেঞ্চুরি সত্ত্বেও কেন চাপে ভারত?

নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম টেস্টে ভারতকে বড় রানের স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন শ্রেয়স আইয়ার ও রবীন্দ্র জাদেজা। কিন্ত দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের পর ৩৪৫ রানে শেষ হয়ে যায় ভারতের ইনিংস। ভারতকে চাপে ফেলে ম্যাচের রাশ শক্ত হাতে ধরল বিশ্বের ১ নম্বর টেস্ট দল তথা টেস্টের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন নিউজিল্যান্ড। শ্রেয়স আয়ারের টেস্ট অভিষেকে সেঞ্চুরি সত্ত্বেও নিউজিল্যান্ডকে ম্যাচে ফেরালেন টিম সাউদি। আর ভারতকে চাপে ফেলার দুই কারিগর টম লাথাম ও উইল ইয়ং।আগের দিনের ৪ উইকেটে ২৫৮ রান নিয়ে দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করে ভারত। ৭৫ রান করে অপরাজিত ছিলেন শ্রেয়স আয়ার। ৫০ রানে ক্রিজে ছিলেন রবীন্দ্র জাদেজা। লাঞ্চের সময় ভারতের রান ছিল ৩৩৯/৮। এদিন কোনও রান না করেই আউট হন রবীন্দ্র জাদেজা। ২৬৬ রানে পঞ্চম উইকেট পড়ার পর ২৮৮ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় ভারত। ঋদ্ধিমান সাহা ১২ বলে ১ রান করলেন। সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে না পারায় নিউজিল্যান্ড সিরিজই ঋদ্ধিমানের শেষ আন্তর্জাতিক সিরিজ হতে চলেছে কিনা সেই জল্পনা জোরালো হলো। ঋদ্ধিমানের পর শ্রেয়স আয়ারকেও আউট করেন সাউদি। ২৬৭ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে ১৭১ বলে ১০৫ রান করেন শ্রেয়স আয়ার। ১৩টি চার ও দুটি ছয় মেরেছেন। ৯৬.১ ওভারে ভারতের সপ্তম উইকেট পড়ে ৩০৫ রানে।৯৯তম ওভারের শেষ বলে অক্ষর প্যাটেল সাউদির পঞ্চম শিকার। তিনি করেন তিন। টিম সাউদি ২৭.৪ ওভারে ৬টি মেডেন-সহ ৬৯ রানের বিনিময়ে ৫ উইকেট নেন। ভারত প্রথম ইনিংসে তোলে ৩৪৫। ভারত শেষ ৬টি উইকেট হারায় ৮৭ রানে।দ্বিতীয় দিনেও পিচে কোনও জুজু ছিল না তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন নিউজিল্যান্ডের ওপেনাররা। দ্বিতীয় দিনের শেষে ভারতের প্রথম ইনিংসে ৩৪৫ রানের জবাবে ৫৭ ওভার খেলে নিউজিল্যান্ড তুলেছে বিনা উইকেটে ১২৯ রান। দিনের শেষে লাথাম ১৬৫ বলে ৫০ রানে অপরাজিত রয়েছেন। উইল ইয়ং অপরাজিত রয়েছেন ১৮০ বলে ৭৫ রান করে। বেশ কিছু দৃষ্টিনন্দন ড্রাইভ শট দেখা গিয়েছে ইয়ংয়ের ব্যাট থেকে। স্যুইপের সঙ্গে লেগ ফ্লিক মেরে স্পিনারদের সামলেছেন লাথাম।

নভেম্বর ২৬, ২০২১
খেলার দুনিয়া

IND vs NZ Test : অভিষেকেই দুরন্ত ব্যাটিং, বৃত্ত সম্পূর্ণ হল শ্রেয়স আয়ারের

২০১৭ সালে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে প্রথম ভারতীয় টেস্ট দলে ডাক পেয়েছিলেন শ্রেয়স আয়ার। বিরাট কোহলি না থাকায় তাঁর পরিবর্তে শ্রেয়সকে দলে রেখেছিলেন নির্বাচকরা। সেই সিরিজে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন অজিঙ্কা রাহানে। যদিও টেস্ট অভিষেক হয়নি শ্রেয়সের। এবারও বিরাট কোহলি বিশ্রাম নেওয়ায় সুযোগ পেয়েছেন শ্রেয়স। নেতা সেই অজিঙ্কা রাহানে। তবে এবার আর রিজার্ভ বেঞ্চে বসে থাকতে হয়নি শ্রেয়সকে। সুযোগ পেয়েই অভিষেক টেস্টে দুরন্ত অর্ধশতরান। তাঁর দুরন্ত অর্ধ শতরানের সুবাদে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম দিনের শেষে ভাল জায়গায় ভারত।কানপুরের উইকেট বরাবরই স্পিন সহায়ক। চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করা কঠিন হবে। এই কথা মাথায় রেখে টস জিতে ভারত এদিন প্ৰথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অজিঙ্কা রাহানের লক্ষ্য ছিল প্রথম ইনিংসে বড় রান তুলে নিউজিল্যান্ডকে চাপে ফেলা। সেই লক্ষ্যের পথে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলেছে ভারত। এদিন প্রথম সেশনে একটি, দ্বিতীয় সেশনে তিনটি উইকেট পড়লেও, তৃতীয় সেশনের পর আর কোনও উইকেট হারায়নি ভারতীয় দল। মধ্যাহ্নভোজের বিরতির আগে ভারতের স্কোর ছিল ২৯ ওভারে ১ উইকেটে ৮২।ভারত এদিন প্রথমে হারায় ময়াঙ্ক আগরওয়ালের উইকেটে । ১৩ রান করে কাইল জেমিসনের বলে তিনি কট বিহাইন্ড হন। লাঞ্চের পর প্রথম ওভারের শেষ বলে শুভমান গিলকে বোল্ড করেন জেমিসন। ৯৩ বলে ৫২ রান করেন গিল। নিজস্ব ভঙ্গীতে ২ ঘণ্টার বেশি ক্রিজে থেকে ৮৮ বল খেলে ২৬ রানে টিম সাউদির ওভারে কট বিহাইন্ড হন চেতেশ্বর পূজারা। ১০৬ রানে ভারত যখন তিন উইকেট হারিয়েছে তখন ব্যাট করতে নামেন শ্রেয়স। তিনি ও রাহানে দলকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন। অজিঙ্ক রাহানে ৬৩ বলে ৩৫ রান করার পর কাট শট মারতে গেলে বল তাঁর ব্যাটে লেগে উইকেট ভেঙে দেয়। রাহানে জেমিসনের তৃতীয় শিকার।রাহানে ফিরে যাওয়ার পর রবীন্দ্র জাদেজা ও শ্রেয়স আয়ার দলকে টেনে নিয়ে যান। এই দুই ব্যাটারের দুরন্ত অর্ধ শতরান দলকে মজবুত জায়গায় পৌঁছে দেয়। প্রথম দিনে আলোর অভাবে খেলা বন্ধের সময় ভারতের স্কোর ৪ উইকেটে ২৫৮ রান। সাতটি চার ও দুটি ছয়ের সাহায্যে ১৩৬ বলে ৭৫ রান করে অপরাজিত শ্রেয়স আইয়ার। ১০০ বলে ৫০ রানে ক্রিজে রবীন্দ্র জাদেজা। তাঁদের অবিচ্ছেদ্য পঞ্চম উইকেট জুটিতে উঠেছে ১১৩ রান। অভিষেক টেস্টে শতরানের দিকে এগোচ্ছেন শ্রেয়স আইয়ার, দরকার আর ২৫। রবীন্দ্র জাদেজা এদিন কেরিয়ারের ১৭তম অর্ধশতরান পূর্ণ করেছেন। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে নটিংহ্যামে প্রথম টেস্টে ৫৬ রান করার পর এদিন ফের টেস্ট হাফ সেঞ্চুরি পেলেন জাদেজা।

নভেম্বর ২৫, ২০২১
  • ‹
  • 1
  • 2
  • ›

ট্রেন্ডিং

রাজ্য

দশকের পর দশক বেহাল রাস্তা, আজও দুর্ভোগ! খাটিয়ায় রোগী নিয়ে হাসপাতালে ছুটলেন গ্রামবাসীরা

গ্রামের যাতায়াতের রাস্তা এতটাই বেহাল যে সেখানে প্রবেশ করতে পারে না কোনও জরুরি পরিষেবার যানবাহন। ফলে কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে পৌঁছনোর জন্য ভরসা বলতে গ্রামবাসীদের কাঁধে চাপানো খাটিয়া। সোমবার সকালে এমনই এক অসহায় পরিস্থিতির ছবি সামনে আসতেই তুমুল চাঞ্চল্য ছড়াল মালদার চাঁচল মহকুমার হরিশ্চন্দ্রপুরে। অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, হরিশ্চন্দ্রপুর থানার ব্লকপাড়া এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অসুস্থ এক বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় শুইয়ে কাঁধে করে নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছেন। যদিও ভাইরাল হওয়া ভিডিওটির সত্যতা সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমের পক্ষ থেকে যাচাই করা হয়নি। তবে ঘটনাটি সামনে আসার পরেই এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার বেহাল দশা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।ঘটনার খবর পেয়ে সোমবার দুপুরে ব্লকপাড়া গ্রামে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে যান হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত। অন্যদিকে, বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান। প্রশাসন ও বিধায়ক, উভয় পক্ষের তরফেই দ্রুত চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।কয়েক দশকের দুর্ভোগ, সরু আলই এখন যাতায়াতের ভরসাব্লকপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, কয়েক দশক আগে এলাকায় মাটির রাস্তা ছিল। কিন্তু গ্রামের একটি বিশাল জলাশয়ের কারণে সেই রাস্তা ক্রমশ কেটে যেতে থাকে। বর্তমানে একসময়ের মাটির রাস্তা কার্যত সরু আলের আকার নিয়েছে। ভাঙাচোরা এই পথ দিয়ে যাতায়াত করাই এখন রীতিমতো দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।গ্রামবাসীদের দাবি, রাস্তা তৈরির প্রতিশ্রুতি তাঁরা আগেও বহুবার পেয়েছেন। বিশেষ করে ভোটের সময় বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনও কাজ হয়নি। তাই এবার প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসে কতটা কাজ হবে, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁদের মনে।হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিডিও ধ্রুবশীষ সামন্ত জানান, বিষয়টি জানার পর তিনি নিজে এলাকায় গিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থার পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেছেন। দ্রুত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে গ্রামবাসীদের জানানো হয়েছে।পেটের যন্ত্রণায় কাতর বৃদ্ধা, শেষ ভরসা খাটিয়াস্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ব্লকপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সি বেলি ঋষি সোমবার সকাল থেকেই পেটের যন্ত্রণায় ছটফট করছিলেন। পরিবারের লোকজন জলপড়া দিয়েও তাঁর যন্ত্রণা কমাতে পারেননি। পরিস্থিতি সামাল দিতে শেষ পর্যন্ত আশপাশের বাসিন্দাদের সাহায্য নিয়ে খাটিয়ায় শুইয়ে তাঁকে কাঁধে করে হরিশ্চন্দ্রপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।অসুস্থ বৃদ্ধার প্রতিবেশী সুমিতা মণ্ডল, বি ফল মণ্ডল ও অনিতা দাসদের অভিযোগ, গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়াই বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। তাঁদের দাবি, রাস্তার অভাবে অনেক সময় ওঝা-গুনিনদের দ্বারস্থ হতে হয়। গ্রামে প্রায় দুই কিলোমিটার ভাঙাচোরা রাস্তা থাকলেও রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো উপযুক্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই। এদিন বৃদ্ধার পেটের যন্ত্রণা না কমায় বাধ্য হয়েই তাঁকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়।রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই রাস্তা তৈরির আশ্বাসএই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর। হরিশ্চন্দ্রপুর ১ ব্লকের বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অজয় পাশোয়ান বলেন, তৎকালীন শাসকদলের উদাসীনতার কারণেই ব্লকপাড়া এলাকার এমন বেহাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। তবে গ্রামের মানুষের দুর্দশার কথা মাথায় রেখে রাজ্য সরকার ও প্রশাসন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।অন্যদিকে, হরিশ্চন্দ্রপুরের তৃণমূল বিধায়ক মতিবুর রহমান অভিযোগের একাংশের বিরোধিতা করে জানান, যে অভিযোগ করা হচ্ছে, তা ঠিক নয়। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিওটি দেখার পর তিনি ওই এলাকায় গিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবেন এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।সব মিলিয়ে, অসুস্থ বৃদ্ধাকে খাটিয়ায় চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও ঘিরে ব্লকপাড়ার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সমস্যাটি ফের সামনে এসেছে। এখন গ্রামবাসীদের নজর প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাস বাস্তবে কত দ্রুত কার্যকর হয়, তার দিকেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বিয়ের চার দিন আগে প্রি-ওয়েডিং শুটে যাওয়ার পথে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, পূর্ববর্ধমানের ভাতারে মৃত তিন

বিয়ের বাকি আর মাত্র চার দিন। নতুন জীবনের সূচনার আগে হবু স্ত্রীকে নিয়ে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন যুবক। সেই উদ্দেশ্যেই দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে গুসকরার পথে রওনা দিয়েছিলেন হবু দম্পতি। কিন্তু আনন্দের সেই যাত্রা মুহূর্তে পরিণত হল ভয়াবহ দুর্ঘটনায়। স্করপিয়ো ও মোটরবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহী। অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গেলেন হবু দম্পতি। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন। মঙ্গলবার দুপুরে পূর্ব বর্ধমানের ভাতার থানার ঝর্ণা মোড়ের কাছে ১১৪ নম্বর জাতীয় সড়কে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতেরা হলেন ভাতার থানার ওরগ্রামের বাসিন্দা সাধুজামাল শেখ ওরফে বচ্চন (৪৭), বর্ধমানের কমলসায়েরের শেখ নওয়াজ (২৩) এবং জামালপুরের মশাগ্রামের সুদেব ঘোষ (২৮)। সাধুজামাল মোটরবাইকের আরোহী ছিলেন। অন্যদিকে, স্করপিয়োয় থাকা শেখ নওয়াজ ও সুদেব পেশায় ফটোগ্রাফার ছিলেন। প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের জন্য তাঁদের সঙ্গে গুসকরার উদ্দেশে যাচ্ছিলেন বর্ধমানের দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা হবু দম্পতি আসরফ মল্লিক ওরফে রাজা এবং জিন্নাতুর খাতুন।নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধানজমিতে উল্টে যায় স্করপিয়োপ্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমানের দিক থেকে একটি স্করপিয়োয় চড়ে গুসকরার দিকে যাচ্ছিলেন হবু দম্পতি ও দুই ফটোগ্রাফার। সেই সময় উল্টো দিক থেকে আসা একটি মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ধাক্কার অভিঘাত এতটাই তীব্র ছিল যে মোটরবাইকটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। অন্যদিকে, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্করপিয়োটি জাতীয় সড়কের পাশে একটি ধানজমিতে গিয়ে উল্টে পড়ে।বিকট শব্দে দুর্ঘটনা ঘটতেই এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ভাতার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। মৃতদেহগুলি উদ্ধারের পাশাপাশি দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িগুলিও আটক করেছে পুলিশ।ছাগলকে বাঁচাতে গিয়ে দুর্ঘটনা, প্রাথমিক অনুমান পুলিশেরপুলিশের প্রাথমিক অনুমান, জাতীয় সড়কের উপর আচমকা একটি ছাগল চলে আসায় সেটিকে বাঁচাতে গিয়ে স্করপিয়োর চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। তার জেরেই মোটরবাইকের সঙ্গে গাড়িটির সংঘর্ষ ঘটে থাকতে পারে। যদিও দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনও নিশ্চিত নয়। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।বিয়ের আনন্দের আগে ভয়াবহ অভিজ্ঞতাহবু দম্পতির বিয়ের আর মাত্র চার দিন বাকি। জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রি-ওয়েডিং ফটোশুটের পরিকল্পনা করেছিলেন তাঁরা। গুসকরার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে ছবি তোলার জন্য দুই ফটোগ্রাফারকে সঙ্গে নিয়ে বেরিয়েছিলেন আসরফ ও জিন্নাতুর।কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর আগেই দুর্ঘটনা তাঁদের সমস্ত পরিকল্পনায় ছেদ টেনে দিল। একদিকে বিয়ের প্রস্তুতির মধ্যেই ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক, অন্যদিকে দুই ফটোগ্রাফার ও এক বাইক আরোহীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এলাকায়। যে যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল নতুন জীবনের স্মৃতি তৈরি করা, সেই যাত্রাই হয়ে উঠল এক মর্মান্তিক অভিজ্ঞতা।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

বারুইপুরের পর গাইঘাটা! নাবালিকা ধর্ষণ-খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যু পুলিশের গুলিতে, কী ঘটেছিল ভোররাতে?

উত্তর ২৪ পরগনা: নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলাকে কেন্দ্র করে ফের চাঞ্চল্য ছড়াল রাজ্যে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের ঘটনার পর এবার উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় পুলিশের গুলিতে মৃত্যু হল এক অভিযুক্ত যুবকের। মৃতের নাম প্রহ্লাদ দাস, যিনি কল্যাণ দাস নামেও পরিচিত। পুলিশের দাবি, অপরাধের পুনর্নির্মাণের জন্য তাঁকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় পুলিশের আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন অভিযুক্ত। পরিস্থিতি সামাল দিতে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ গুলি চালায় বলে দাবি তদন্তকারীদের। তবে কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।লক্ষ্মীপুজোর দিন উদ্ধার কিশোরীর দেহ, ঘনীভূত হয় রহস্যপুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি, গত লক্ষ্মীপুজোর দিন উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটায় এক প্রতিবেশীর বাড়ির পিছন থেকে এক কিশোরীর দেহ উদ্ধার করা হয়। দেহটি ছিল বিবস্ত্র, রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের অভিযোগ ছিল, কিশোরীকে ধর্ষণের পর খুন করা হয়েছে।ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তদন্ত শুরু করে গাইঘাটা থানার পুলিশ। পরিবারের অভিযোগ এবং তদন্তে উঠে আসা তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহের তালিকায় আসেন প্রহ্লাদ দাস নামে এক যুবক। তিনি নির্যাতিতার আত্মীয় বলেও জানা গিয়েছে। পরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ঠিক কী ঘটেছিল, তার উত্তর খুঁজতে শুরু হয় তদন্ত।ঘটনাস্থলে নিয়ে যেতেই কি বদলে গেল পরিস্থিতি?তদন্তের পরবর্তী পর্যায়ে ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য অভিযুক্তকে নিয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশের একটি দল। পুলিশি সূত্রে দাবি, মঙ্গলবার ভোররাতে সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন আচমকাই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত এক পুলিশকর্মীর আগ্নেয়াস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। এমনকি পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোরও অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।পুলিশের দাবি, নিজেদের নিরাপত্তা এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতেই পাল্টা গুলি চালানো হয়। তাতেই গুরুতর জখম হন প্রহ্লাদ দাস। এরপর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।যদিও গোটা ঘটনাক্রম সম্পর্কে পুলিশের এই বক্তব্যই এখনও মূল বিবরণ হিসেবে সামনে এসেছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পরিস্থিতি, গুলি চালানোর প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট সমস্ত তথ্য যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।বারুইপুরের ঘটনার সঙ্গে মিল, বাড়ছে চর্চাগাইঘাটার এই ঘটনার সঙ্গে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরে নাবালিকা ধর্ষণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনার তুলনা টানা হচ্ছে। সেই ক্ষেত্রেও অভিযুক্তকে ঘটনাস্থলে নিয়ে যাওয়ার পর পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। পুলিশের গুলিতে তাঁর মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর এবার গাইঘাটার ঘটনায় একই ধরনের পরিস্থিতির কথা জানানো হয়েছে।পরপর দুই ঘটনায় অভিযুক্তদের মৃত্যুর ধরন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তবে দুটি ঘটনার মধ্যে মিল থাকলেও, প্রত্যেকটির পরিস্থিতি ও প্রমাণ আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।তদন্তের পাশাপাশি উঠছে জবাবদিহির প্রশ্ননাবালিকার ধর্ষণ ও খুনের মতো গুরুতর অপরাধের তদন্তে যেমন দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ জরুরি, তেমনই পুলিশের গুলিতে অভিযুক্তের মৃত্যুর ঘটনাও যথাযথভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালানো হয়েছিল। সেই দাবির সত্যতা নির্ধারণে ঘটনার পারিপার্শ্বিক তথ্য, প্রাসঙ্গিক প্রমাণ এবং তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।একদিকে কিশোরীর মৃত্যু ঘিরে ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে পুলিশি অভিযানে অভিযুক্তের মৃত্যুর পরিস্থিতিদুই বিষয়ই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। গাইঘাটার এই ঘটনা তদন্তের পর কোন তথ্য সামনে আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন: পুলিশের গুলি চালানোর পরিস্থিতি ঠিক কী ছিল এবং তদন্তে কী কী তথ্য উঠে আসে? তার উত্তর মিলবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রকাশের পরেই।

অক্টোবর ২৭, ২০২৬
রাজ্য

তিন সপ্তাহেই বক্সা ছাড়ল বাঘিনী, বাঘ ফেরানোর উদ্যোগে বড় ধাক্কা

কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ ঘিরে তৈরি হল নতুন করে অনিশ্চয়তা। বিহারের বাল্মীকি ব্যাঘ্র প্রকল্প থেকে আনা বাঘিনী টি ১৩৮ বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে চলে গিয়েছে বলে বন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে। ফলে বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা কতটা সফল হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।গত ২ অক্টোবর সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারে করে অত্যন্ত ঘটা করে বাঘিনীটিকে বক্সার জঙ্গলে ছাড়া হয়েছিল। বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পে তার নাম রাখা হয় বিটিআর টিএফ-১। দীর্ঘ দুই দশক ধরে বাঘের বসবাসের উপযোগী পরিবেশ তৈরি, পর্যাপ্ত শিকারের ব্যবস্থা এবং জলাশয় গড়ে তোলার কাজ হয়েছে বলে দাবি করেছিল বন দপ্তর। কিন্তু সেই উদ্যোগের পরেও বাঘিনীর অন্য জঙ্গলে চলে যাওয়ার ঘটনায় গোটা পরিকল্পনার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।বন দপ্তর সূত্রের খবর, বক্সার জঙ্গলে ছাড়ার পর প্রথম দেড় সপ্তাহ বাঘিনীটি প্রায় ২৫ থেকে ৩০ বর্গকিলোমিটার এলাকার মধ্যে ঘোরাফেরা করছিল। পরে ধীরে ধীরে তার বিচরণক্ষেত্র বাড়তে থাকে। একসময় প্রায় ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা ঘুরে অসম ও বাংলার সীমান্তবর্তী সংকোশ নদীর আশপাশে পৌঁছে যায় সে। শেষ পর্যন্ত তার গন্তব্য হয় অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যান।বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, সঙ্গী বা মর্দা বাঘের সন্ধান কিংবা স্বাভাবিক বিচরণ প্রবৃত্তির কারণেই বাঘিনীটি বক্সা ছেড়ে অন্য এলাকায় চলে গিয়ে থাকতে পারে। তাঁদের মতে, বক্সায় বাঘের বংশবিস্তার ও স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে একসঙ্গে একাধিক বাঘ আনার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সেখানে মাত্র একটি বাঘিনীকে এনে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।বাঘিনীর গতিবিধির উপর নজর রাখতে তার গলায় পরানো হয়েছিল হাই-ফ্রিকোয়েন্সি রেডিও কলার। স্যাটেলাইট ও গ্রাউন্ড ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তার অবস্থান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা ছিল। তা সত্ত্বেও বাঘিনীকে বক্সার জঙ্গলে ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। যদিও বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা যে সহজ নয়, সেই যুক্তিও সামনে আসছে। তবে এত আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও বাঘিনীর গতিপথ নিয়ে বন দপ্তরের পরিকল্পনা ও নজরদারি কতটা কার্যকর ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বনকর্তার বক্তব্য, নজরদারির ব্যবস্থা থাকলেও বন্যপ্রাণীকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে আটকে রাখা সম্ভব নয়। তার স্বাভাবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী সে অন্যত্র চলে যেতেই পারে।এদিকে বাঘিনীটিকে ঘিরে বন দপ্তরের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। কারণ, একবার অসমের জঙ্গলের পথ চিনে নেওয়ার পর তাকে ফিরিয়ে আনা হলেও ভবিষ্যতে সে আবার একই পথে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। বর্তমানে বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের একটি বিশেষ দল অসমে পৌঁছে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে। অন্যদিকে, অসমের রাইমোনা জাতীয় উদ্যানে ইতিমধ্যেই ছয়টি রয়েল বেঙ্গল টাইগার রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে বাঘিনীটি স্থায়ীভাবে থেকে যায়, নাকি আরও গভীরে মানস ব্যাঘ্র প্রকল্পের দিকে চলে যায়, তা নিয়ে এখন নজর রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলের।সব মিলিয়ে, বক্সায় বাঘের স্থায়ী বসতি গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার শুরুতেই এই ঘটনা বন দপ্তরের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোটি কোটি টাকা খরচ করে উপযুক্ত পরিবেশ তৈরির দাবি এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও বাঘিনীর অন্য রাজ্যে চলে যাওয়া নতুন করে ভাবাচ্ছে বনকর্তা ও বন্যপ্রাণ বিশেষজ্ঞদের। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, বক্সায় বাঘ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ শেষ পর্যন্ত কতটা সফল হবে।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
কলকাতা

বেহালায় প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে অমানবিকতার চরম নজির, বাবা-ছেলেকে বিবস্ত্র করে রাস্তায় হাঁটানোর অভিযোগ, গ্রেফতার ৩

কলকাতার বেহালায় প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এক যুবক ও তাঁর বাবার উপর অমানবিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠল তরুণীর পরিবারের বিরুদ্ধে। তিনজনকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো, মারধর এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে হুমকি দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। ঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় উত্তেজনা ও ক্ষোভ ছড়ায়। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ২৫ অক্টোবর সরশুনা থানার অন্তর্গত বসুন্ধরা পার্ক এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে অভিযোগ। ওই যুবকের সঙ্গে তরুণীর প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি তাঁর পরিবার। সেই আক্রোশ থেকেই যুবক ও তাঁর বাবাকে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মেয়েটি নাবালিকা বলে জানা গিয়েছে।অভিযোগ অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর ওই যুবক ও তরুণীকে একসঙ্গে দেখতে পান তরুণীর পরিবারের সদস্যরা। এরপর যুবককে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামার জড়িত থাকার দাবি উঠেছে। পরে যুবকের বাবাকেও ঘটনাস্থলে ডেকে পাঠানো হয়।অভিযোগ, সেখানে ছেলের সামনেই যুবকের বাবার হাতে একটি আগ্নেয়াস্ত্র তুলে দিয়ে তাঁকে ভয় দেখানো হয়। ছেলেকে গুলি করতে হবে, না হলে বিবস্ত্র হয়ে রাস্তায় হাঁটতে হবে, এমন শর্ত দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি। এরপর যুবক ও বাবাকে বিবস্ত্র করে প্রকাশ্য রাস্তায় হাঁটানো হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় যুবকের এক বন্ধুকেও মারধর করা হয় এবং একইভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।সমাজমাধ্যমে ভিডিও ছড়াতেই উত্তেজনা বাড়েঘটনার ভিডিও সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতার একাংশ তরুণীর বাড়িতে ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সরশুনা থানার পুলিশ। স্থানীয় সূত্রের খবর, পুলিশ পৌঁছনোর আগেই তরুণীর বাবা-সহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য বাড়ি ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে, তরুণীর মামাকে স্থানীয় বাসিন্দারা ধরে মারধর করার পর পুলিশের হাতে তুলে দেন বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা ও মামা-সহ মোট তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।অস্ত্র আইন ও বিএনএসের একাধিক ধারায় মামলাজানা গিয়েছে, এই ঘটনায় ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে সরশুনা থানায় ২২২/২০২৬ নম্বর মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। অস্ত্র আইনের ২৫(১বি)(ক) ধারা-সহ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার (বিএনএস) ১০৯, ১১৮(১), ১১৭(২), ১২৭(২), ৩৫৬(২), ৩৫১(৩), ১৪০(৩) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ। পাশাপাশি, তরুণীর পরিবারের সঙ্গে স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেসের এক কাউন্সিলরের ঘনিষ্ঠতা ছিল বলেও কয়েকজন বাসিন্দা দাবি করেছেন। তবে এই দাবির বিষয়ে কোনও নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি। সূত্রের খবর, ঘটনার তদন্তে একটি সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। কয়েকজন স্থানীয় সাক্ষীকে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানা গিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, নির্যাতনের অভিযোগ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

জোড়াফুলের দখল কার? ঋতব্রতদের ১০ দিনের সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট, পালটা হলফনামার সুযোগ কালীঘাট শিবিরকেও

কলকাতা: তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও নির্বাচনী প্রতীক ঘাসের উপর জোড়াফুল কার দখলে থাকবে, তা নিয়ে আইনি লড়াই এখনও অব্যাহত। এই বিতর্কের নিষ্পত্তির জন্য এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসকে (ঋতব্রত শিবির) আরও ১০ দিন সময় দিল সুপ্রিম কোর্ট। একইসঙ্গে, প্রতিপক্ষের জমা দেওয়া নথি ও হলফনামা খতিয়ে দেখে নিজেদের বক্তব্য পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরও অতিরিক্ত ১০ দিন সময় পাবে। ফলে দুই পক্ষের নথি আদানপ্রদান ও পালটা বক্তব্য পেশের প্রক্রিয়া শেষ করতে আরও সময় লাগবে। অন্যদিকে, আদালতে নথি জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দুই শিবিরের সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। কালীঘাটের তরফে নথি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।নথি জমার সময়সীমা বাড়ল, কী বলল আদালত?সোমবার ছিল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী দুই পক্ষের প্রয়োজনীয় নথি ও হলফনামা জমা দেওয়ার নির্ধারিত সময়সীমা। আদালতের নির্দেশ মেনে কালীঘাট শিবির তাদের নথি জমা দিলেও গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেই কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরই অতিরিক্ত সময় চেয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন ঋতব্রত শিবিরের আইনজীবী।আদালতে তাঁদের তরফে জানানো হয়, প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করে জমা দেওয়ার জন্য আরও কিছুটা সময় দরকার। দুর্গাপুজোর কারণে স্ট্যাম্প পেপার সংগ্রহ করতে সমস্যা হওয়ায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি বলেও যুক্তি দেওয়া হয়। সেই কারণে আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছিল গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস।তবে এই আবেদনের বিরোধিতা করেন কালীঘাট শিবিরের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময় দেওয়ার আবেদন মঞ্জুর করে সুপ্রিম কোর্ট। তবে চাওয়া দুই সপ্তাহের পরিবর্তে ১০ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে দেয় আদালত। পাশাপাশি, ঋতব্রত শিবিরের জমা দেওয়া নথি খতিয়ে দেখে পালটা হলফনামা পেশ করার জন্য কালীঘাট শিবিরকেও আরও ১০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে।উপনির্বাচনে আলাদা নাম-প্রতীক, কিন্তু স্থায়ী সমাধান কোথায়?তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভাজনের জেরে দলের নাম ও প্রতীক নিয়ে যে জটিলতা তৈরি হয়েছে, তার নিষ্পত্তি এখনও হয়নি। দুই শিবিরের মধ্যে রাজনৈতিক বিরোধ গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। দলের পরিচিত নাম এবং দীর্ঘদিনের নির্বাচনী প্রতীক নিজেদের দখলে রাখার প্রশ্নেই মূলত এই আইনি লড়াই।গত ৬ অক্টোবর রাজ্যের দুই কেন্দ্রে উপনির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচন কমিশন দুই পক্ষের জন্য পৃথক নাম ও প্রতীকের ব্যবস্থা করেছিল। সেই সময় অস্থায়ী সমাধান হিসেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন শিবির সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস নামে ফুটবল প্রতীক পায়। অন্যদিকে, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ হয় খাম প্রতীক।কিন্তু উপনির্বাচনের জন্য করা সেই ব্যবস্থা স্থায়ী সমাধান নয়। দলের পুরনো পরিচয় এবং ঘাসের উপর জোড়াফুল প্রতীক নিয়ে দুই পক্ষের দাবি-পালটা দাবি অব্যাহত রয়েছে। সেই কারণেই বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। কোন পক্ষ শেষ পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও ঐতিহ্যবাহী প্রতীকের অধিকার পাবে, তা নির্ধারণের আগে দুই শিবিরের বক্তব্য ও প্রাসঙ্গিক নথি খতিয়ে দেখতে চাইছে আদালত।হরিয়ানায় নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগ ঋতব্রতরআদালতে নথি জমা দেওয়া নিয়ে যখন আইনি প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময়ই নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার সকালে নিজের এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে তাঁর অভিযোগ, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নথিপত্র দিল্লিতে নিয়ে যাওয়ার পথে বাধা দেওয়া হয় এবং সেগুলি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলে।ঋতব্রতর দাবি, কালীঘাট শিবির ২৫ অক্টোবর, রবিবার রাতে চার্টার্ড বিমানে নিজেদের নথি দিল্লিতে পাঠিয়েছিল। অন্যদিকে, গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা ২৪ অক্টোবর, শনিবার সড়কপথে নথিপত্র নিয়ে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেন। সেই নথি নিয়ে যাওয়ার সময় সোমবার ভোর সাড়ে তিনটে নাগাদ হরিয়ানায় তাঁদের ট্রাক আটকানো হয় বলে অভিযোগ বিরোধী দলনেতার।তাঁর আরও দাবি, ওই সময় নথিপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তবে দলের কর্মীরা সেই চেষ্টা ব্যর্থ করে দেন। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন তিনি।চার্টার্ড সংস্কৃতি বনাম তৃণমূল স্তর, কটাক্ষ বিরোধী দলনেতারঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক আক্রমণের সুরও চড়িয়েছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, একদিকে চার্টার্ড বিমানে নথি পাঠানোর ব্যবস্থা, অন্যদিকে দলের কর্মীদের সড়কপথে নথি নিয়ে যাওয়াএই দুই পরিস্থিতির মধ্যে যেন একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, ক্ষমতা ও গায়ের জোর দেখিয়ে সবকিছু দখল করার চেষ্টা করা হলেও তা সবসময় সফল হয় না।যদিও নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টার এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ফলে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেও নজর থাকবে।পুরসভা নির্বাচন ঘিরে বাড়ছে রাজনৈতিক গুরুত্বকলকাতা, হাওড়া-সহ রাজ্যের একাধিক পুরসভায় নির্বাচন সামনে আসায় তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। নির্বাচনের আগে দলের পরিচয় ও প্রতীকের প্রশ্নে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই শিবিরের রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।এখন নজর সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেস প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে পারে কি না, তার পরিপ্রেক্ষিতে কালীঘাট শিবির কী পালটা বক্তব্য পেশ করে এবং শেষ পর্যন্ত জোড়াফুল প্রতীকের অধিকার কার হাতে যায়সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা। আপাতত আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায় দুই শিবিরই।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
দেশ

মোদির বাবা তুলে খাড়গের কটাক্ষ, দেশজুড়ে বিজেপির বিক্ষোভ! ‘ভারতের অপমান’ বলে তীব্র আক্রমণ রাজনাথের

জনসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা। বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিভিন্ন জায়গায় প্রতিবাদে নেমেছে বিজেপি। খাড়গের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবিতে সরব গেরুয়া শিবির। বিতর্কে কংগ্রেসকে পালটা আক্রমণ প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়েরও।নিজস্ব সংবাদদাতা, রাজনৈতিক মহল: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে আক্রমণ করতে গিয়ে তাঁর বাবাকে নিয়ে কটাক্ষ করার অভিযোগে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র হয়েছে। প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করেছে বিজেপি। বিভিন্ন রাজ্যে রাস্তায় নেমে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। অন্যদিকে, এই মন্তব্যকে ভারতের অপমান বলে কংগ্রেসকে নিশানা করেছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং।বিজেপির অভিযোগ, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সমালোচনা করতে গিয়ে খাড়গে ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা অতিক্রম করেছেন। এই মন্তব্যের জন্য তাঁর প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া উচিত বলে দাবি গেরুয়া শিবিরের। শুধু ক্ষমাপ্রার্থনাই নয়, কংগ্রেস সভাপতির পদ থেকেও তাঁকে সরে দাঁড়ানোর দাবি জানিয়েছেন বিজেপির নেতা-কর্মীদের একাংশ।বিহার থেকে জম্মু, বেঙ্গালুরুবিক্ষোভে বিজেপিখাড়গের মন্তব্যের প্রতিবাদে সোমবার বিহারে বড়সড় মিছিল বের করেন বিজেপি নেতা-কর্মীরা। মিছিল থেকে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে একাধিক স্লোগান তোলা হয়। তাঁর পদত্যাগের দাবিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে খাড়গের কুশপুতুলও পোড়ানো হয়।একই ইস্যুতে উত্তেজনা ছড়ায় জম্মুতেও। সেখানে বিজেপি কর্মীরা খাড়গের পোস্টার পুড়িয়ে প্রতিবাদ জানান। বেঙ্গালুরুর ফ্রিডম পার্কেও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন গেরুয়া শিবিরের নেতা-কর্মীরা। পাশাপাশি, আরও কয়েকটি রাজ্যে বিজেপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।বিজেপির বক্তব্য, রাজনৈতিক মতপার্থক্য গণতন্ত্রের স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু বিরোধিতা করতে গিয়ে কোনও ব্যক্তির পরিবারকে টেনে এনে আক্রমণ করা রাজনৈতিক শালীনতার পরিপন্থী। সেই কারণেই খাড়গের মন্তব্যের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদে নেমেছে দল।এটা ভারতের অপমান, খাড়গেকে নিশানা রাজনাথেরএই বিতর্কে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। তাঁর বক্তব্য, খাড়গের মতো একজন প্রবীণ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এমন মন্তব্য প্রত্যাশিত নয়। যে দল নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দেয়, সেই দলের সভাপতির মুখে এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক বলেও দাবি করেছেন তিনি।রাজনাথের কথায়, এটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক যে এই মন্তব্যগুলি কোনও সাধারণ কংগ্রেস কর্মী বা যুব নেতা করেননি, বরং এমন এক দলের সভাপতি করেছেন, যে দলটি নিজেদের দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল বলে দাবি করে।এখানেই থামেননি প্রতিরক্ষামন্ত্রী। খাড়গের মন্তব্যকে দেশের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত করে তিনি বলেন, খাড়গের এহেন মন্তব্য আসলে ভারতের অপমান।রাজনাথের আরও অভিযোগ, নিজেদের ভুল স্বীকার করে দুঃখ প্রকাশ করার পরিবর্তে কংগ্রেসের তরফে খাড়গের মন্তব্যকে সমর্থন করা হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ধরনের আচরণ রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তিক্ত করে তুলছে। ফলে শুধু খাড়গে নন, গোটা কংগ্রেস নেতৃত্বকেই এই বিষয়ে জবাবদিহি করতে হবে বলে দাবি বিজেপি শিবিরের।কী বলেছিলেন খাড়গে? কোথা থেকে বিতর্কের সূত্রপাত?এই বিতর্কের সূত্রপাত রবিবার বিহারের পাটনায়। বিহারের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী কৃষ্ণ সিংয়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সেখানে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। সেই সভায় বক্তৃতা করার সময়ই ঘটে বিতর্কিত ঘটনাটি।খাড়গে যখন বক্তব্য রাখছিলেন, তখন উপস্থিত এক ব্যক্তি তাঁকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দেশে বিদ্রোহ না হলে মোদিকে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না। তবে ওই ব্যক্তির বক্তব্যের সম্পূর্ণ অংশ খাড়গে শুনতে পাননি বলে দাবি করা হয়েছে। তিনি কথাটির অর্থ বুঝেছিলেন অন্যভাবে। তাঁর কানে পৌঁছয়, মোদি কোথাও যাবেন না।এরপরই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিশানা করেন কংগ্রেস সভাপতি। সেই সময় তিনি বলেন, মোদির বাপকেও যেতে হবে।খাড়গের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই শুরু হয় রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির দাবি, দেশের প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বিরোধিতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাঁর বাবাকে টেনে এনে এমন মন্তব্য করা অনভিপ্রেত এবং নিন্দনীয়। এই বক্তব্যের জন্য খাড়গের ক্ষমা চাওয়া উচিত বলেও দাবি করেছে গেরুয়া শিবির।রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কাঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপি ও কংগ্রেসের মধ্যে সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একদিকে খাড়গের মন্তব্যকে হাতিয়ার করে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে আক্রমণ আরও তীব্র করছে বিজেপি। অন্যদিকে, এই বিতর্কের রাজনৈতিক অভিঘাত আগামী দিনে কতটা বাড়ে, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে রাজনৈতিক বিরোধিতা নতুন নয়। তবে সেই বিরোধিতা ব্যক্তিগত আক্রমণের পর্যায়ে পৌঁছলে তা রাজনৈতিক শালীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেয়। খাড়গের মন্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কেও উঠে এসেছে সেই প্রশ্নই। এখন দেখার, এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী অবস্থান নেয় এবং বিজেপির ক্ষমাপ্রার্থনা ও পদত্যাগের দাবি নিয়ে রাজনৈতিক সংঘাত কোন দিকে এগোয়।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬
রাজ্য

স্কুলে ফিরুক পাস-ফেল, মোবাইল নিষিদ্ধের পক্ষে সওয়াল শুভেন্দুর

স্কুলশিক্ষায় একাধিক পরিবর্তনের পক্ষে সওয়াল করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্কুলে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা এবং পড়ুয়াদের মধ্যে জাতীয়তাবোধ জাগিয়ে তোলার উপরে জোর দিলেন তিনি। পাশাপাশি প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি (NCC) এবং এনএসএস (NSS) চালু করার পক্ষেও মত প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানোও জরুরি।রবিবার রামনগরে চোরবাগানে পদপিষ্ট হয়ে মৃতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিন চিত্রশিল্পী যোগেন চৌধুরীর প্রয়াণ নিয়েও কথা বলেন তিনি। পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধীদের নিশানা করে বিতর্কিত মন্তব্যও করেন মুখ্যমন্ত্রী।স্কুলশিক্ষার প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, পড়ুয়াদের ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে স্কুলে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করা এবং পাস-ফেল প্রথা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন। ভারতবর্ষের ইতিহাস, পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাস এবং আধুনিক ভাষার সঙ্গে পড়ুয়াদের পরিচিত করে তোলার উপরেও গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর মতে, শিক্ষার পরিসর শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ছাত্রছাত্রীদের সর্বাঙ্গীণ বিকাশের জন্য সহপাঠক্রমিক কার্যকলাপেও গুরুত্ব দিতে হবে।প্রতিটি স্কুলে ব্রতচারী, এনসিসি এবং এনএসএস ফিরিয়ে আনার পক্ষে সওয়াল করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তবলা, হারমোনিয়াম, গিটার, সেতার ও খঞ্জনির মতো বাদ্যযন্ত্রের চর্চাও স্কুলে থাকা উচিত। পড়ুয়াদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভা খুঁজে বের করে তা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।এদিন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের শিক্ষানীতি নিয়েও আক্রমণ শানান শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, এনসিসি তুলে দিয়ে জয় হিন্দ বাহিনী চালু করা হয়েছিল। ব্রতচারী কার্যক্রম বন্ধ করার মতো পদক্ষেপও করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভাষা ও শব্দের ব্যবহার নিয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।

অক্টোবর ২৬, ২০২৬

Ads

You May Like

Gallery

265-year-old "Mukhopadhyay House" in Bhavanandpur, Kalnar, played vermilion on Dasami during Durga Puja
BJP candidate Locket Chatterjee campaigned on the banks of the Ganges from Chandannagar Ranighat to Triveni Ghat wishing New Year.
A living depiction of history with a touch of color, everyone is enthralled by the initiative of the Eastern Railway
Sucharita Biswas actress and model on Durga Puja
Lord Kalabau came up in palanquin; Navapatrika walked towards the mandap - the puja started
On Sunday, the 'Hilsa festival' is celebrated in the city with great joy.
Check out who has joined Mamata's new cabinet
Take a look at the list of recipients at the Bangabibhushan award ceremony
If you are grassroots, you will get ration for free. Lakshmi Bhandar, Kanyashree, Swastha Sathi, Krishakbandhu, Oikyashree, Sabujsathi — you will get all.

Categories

  • কলকাতা
  • রাজ্য
  • দেশ
  • বিদেশ
  • রাজনীতি
  • খেলার দুনিয়া
  • বিনোদুনিয়া
  • সম্পাদকীয়
  • নিবন্ধ
  • ভ্রমণ
  • রাশিফল
  • টুকিটাকি
  • চিত্রহার
  • বিবিধ
  • ভিডিও

Company

  • About Us
  • Advertise
  • Privacy
  • Terms of Use
  • Contact Us
Copyright © 2026 Janatar Katha News Portal